অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর দারিদ্র্যের কশাঘাত দমাতে পারেনি ভ্যানচালকের ছেলে সবুজকে। সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। চার সদস্যের অভাবী সংসারের মধ্যেই খেয়ে না খেয়ে বড় হয়েছে সবুজ। বাবাই সংসারের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। সম্পদ বলতে বাড়ি-ভিটে আর নিজের দেহটা। ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাতে মাও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। অদম্য ইচ্ছাশক্তি নিয়েই সবুজ এবার ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেটে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে।

সবুজের পুরো নাম আশরাফুল ইসলাম সবুজ। সে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের কয়ড়া পূর্বপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুর রশিদের ছেলে। তারা দুই ভাই। ছোট ভাই সবিজ রায়হান ধনবাড়ী মডেল কলেজিয়েট স্কুলের নবম শ্রেণিতে পড়ে। মা সুফিয়া বেগম। দাদা জোয়াহের আলীও ভ্যানচালক।

সবুজ ধনবাড়ী মডেল কলেজিয়েট স্কুল থেকে জেএসসি, এসএসসি এবং শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কলেজ মায়মনসিংহ থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়।

এলাকাবাসী জানান, ভ্যানচালক আব্দুর রশিদের দুই ছেলেই খুব মেধাবী। সংসারে রশিদই একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম। এতদিন ভ্যান চালিয়ে ও ধারদেনা করে দুই ছেলেকে পড়ালেখা করিয়ে আসছেন। কীভাবে সবুজকে ডাক্তারি পড়াবেন- তা নিয়ে সবুজের বাবা খুবই চিন্তিত।

ভ্যানচালক আব্দুর রশিদ বলেন, 'ছোটবেলা থেকে সুবজ ভালা ছাত্র। ছোট থিকে সবইরে কইতো আমি ডাক্তর হমু। অনেক কষ্ট কইরা পুলারে পড়ালেখা করাইতাছি। আল্লাহর রহমতে আমার পুলা ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাইছে। কিন্তু আমার সংসারে আয়-উন্নতি তেমন নাই। এ জন্য অনেক কষ্টের মধ্যে আছি। কিবা কইরা পুলাডারে ডাক্তারি পড়ামু? ডাক্তারি পড়াইতে পারমু কিনা তাও জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আমগর কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক স্যারসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে সবুজের জন্য সাহায্য চাই।'

সবুজের মা সুফিয়া বেগম বলেন, 'দুই পুলারে অনেক কষ্ট কইরা পড়ালেখা করাইতাছি। অনেক সময় না খাইয়া থাকি। আমগর পুলাডা পড়াশোনা কইরা ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাইছে। এখন পুলাডারে ভর্তির জন্য টেহা কুনু পামু?'

মন্তব্য করুন