পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে চিংড়ি চাষের জন্য অবৈধভাবে নোনা পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে কৃষকের প্রায় আশি বিঘা জমির আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত শুক্রবার বিকেল থেকে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের পুঁঠিমারী বিলে নোনা পানি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কৃষকরা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে আভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, বেশ কয়েক বছর আগে থেকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার একজন প্রভাবশালী চিংড়িচাষি শেখ রোকন উদ্দিন। তিনি বিভিন্নজনের জমি ভাড়া নিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের ১৭/১ পোল্ডারের পুঁঠিমারী এলাকায় পাউবোর বেড়িবাঁধ ছিদ্র করে অবৈধভাবে নোনা পানির চিংড়ি চাষ করে আসছেন। এ কারণে ওই এলাকার কৃষকরা নোনা পানির প্রভাবে প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হন। ওই ঘেরমালিক হঠাৎ শুক্রবার বিকেল থেকে নদীর জোয়ারের নোনা পানি তুলে পুঁঠিমারী বিল সয়লাব করে দেন। নোনা পানির প্রভাবে পুঁঠিমারী বিলের একাধিক কৃষকের প্রায় ৮০ বিঘা জমির আধাপাকা বোরো ধান নষ্ট হয়। পরিবেশ বিনষ্টকারী নোনা পানির চিংড়ি চাষের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী একাধিকবার প্রতিবাদ করলেও ঘেরমালিক শুনছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পলাশ মণ্ডল, ননি বাছাড়, কিনু সানা, হাবিবুর রহমানসহ অনেকে জানান, অবৈধভাবে নোনা পানির চিংড়ি চাষ বন্ধ রাখতে ওই ঘের ব্যবসায়ীকে একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে। হঠাৎ নোনা পানির প্রভাবে পুঁঠিমারী বিলের প্রত্যেক কৃষকের ৪ থেকে ৬ বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। প্রায় ৮০ বিঘা জমির নষ্ট ধান কৃষকরা দ্রুত উঁচু স্থানে সরিয়ে নিতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

চিংড়িচাষি শেখ রোকন উদ্দিন বলেন, আগেই কৃষকদের জমির ধান কেটে নিতে বলেছিলাম। কৃষকরা আমার কথা শোনেনি। এখন চিংড়ি চাষের ভরা মৌসুম। তাই ঘেরে নোনা পানি তুলেছি। বেড়িবাঁধ কাটার বিষয়ে আমি পাউবোর সঙ্গে বুঝব।

আটলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রতাপ রায় বলেন, কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাছাড়া বেড়িবাঁধ ছিদ্র করায় কাঁঠালতলা-মাগুরখালী পাকা সড়কটি হুমকিতে।

ডুমুরিয়া পাউবোর শাখা কর্মকর্তা (এসও) হাসনাতুজ্জামান বলেন, বেড়িবাঁধ কেটে নোনা পানির চিংড়ি চাষ অবৈধ। ঘেরমালিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

মন্তব্য করুন