রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাস্তার নির্মাণসামগ্রী রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। কয়েক মাস ধরে এ মাঠ দখল করে নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। এতে মাল বহনকারী ট্রাক্টরের ধাক্কায় নষ্ট হচ্ছে বিদ্যালয় ভবনের দেয়াল, সিঁড়ি ও সীমানা প্রাচীর। যে কোনো মুহূর্তে বিদ্যালয় খুললে পাঠদানে ব্যাঘাত সৃষ্টি হবে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে ছাটকড়াইবাড়ী ভায়া রৌমারী সরকারি কলেজ পর্যন্ত ১৪ কি.মি. রাস্তা সংস্কারের পাথর, বালি, খোয়াসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী রাখা হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ের পুরো মাঠ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইয়াছিন আলী, মোন্তাজ আলী, মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, অবৈধভাবে বিদ্যালয় মাঠে রাস্তা সংস্কারের জন্য পিচ ও পাথর পোড়ানো হলে নবনির্মিত ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তারা আরও বলেন, ঠিকাদারের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদ্যালয় মাঠে মাল রাখার অনুমতি দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক।

টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে টাপুরচর বিজি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল গনি বলেন, ঠিকাদার আমাকে না জানিয়ে বিদ্যালয় মাঠে নির্মাণসামগ্রী রাখেন। এতে পাথরবোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় বিদ্যালয়ের একটি ভবনের দেয়ালে ফাটল ধরে এবং সীমানা প্রাচীর ভেঙে যায়। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হামিদ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুল হামিদ বলেন, বিদ্যালয় বন্ধ থাকা ও জায়গা না পাওয়ায় রাস্তা সংস্কার কাজে নির্মাণসামগ্রী ওই বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়েছে। কার্পেটিংয়ের কাজ পর্যন্ত নির্মাণসামগ্রী রাখা হবে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম বলেন, কোনোক্রমেই ঠিকাদারের নির্মাণসামগ্রী বিদ্যালয় মাঠে রাখার নিয়ম নেই। এ জন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে এর দায়ভার বহন করতে হবে।

মন্তব্য করুন