লবণ পানি অধ্যুষিত মোংলায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় এলাকায় অনেকটা হাহাকার অবস্থা বিরাজ করছে। শহরের অধিকাংশ পুকুর বালু দিয়ে ভরাট করার কারণে খাবার ছাড়া অন্যান্য কাজে ব্যবহার্য পানিও পাওয়া যাচ্ছে না। পৌরসভা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে যেটুকু পানি সরবরাহ করা হচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এদিকে গ্রামাঞ্চলে অধিকাংশ পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় সেখানেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ প্লান্টের মাধ্যমে সামান্য কিছু পানি সরবরাহ করছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী বছর নাগাদ পানি সরবরাহের তৃতীয় ফেজ চালু করা সম্ভব হলে এখানে বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেকটাই দূর করা সম্ভব হবে।

বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলীয় মোংলার চারদিক লবণ পানি অধ্যুষিত। শহর এলাকায় পৌরসভা পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করলেও গ্রামের লোকজন পুকুর ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার নলকূপে লবণ পানি ওঠায় মানুষ তা ব্যবহার করতে পারে না। বর্তমান গ্রীষ্ফ্ম মৌসুমে প্রচণ্ড দাবদাহে এলাকার অধিকাংশ পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ছাড়া পৌর এলাকার অধিকাংশ পুকুরই বালু দিয়ে ভরাট করে ফেলা হয়েছে। এদিকে টানা বেশ কয়েক মাস বৃষ্টি না হওয়ায় মজুদ রাখা বৃষ্টির পানিও শেষ হয়ে গেছে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী অনেকটা বাধ্য হয়ে দূষিত ও নোনা পানি পান ও অন্যান্য গৃহস্থালি কাজে ব্যবহার করছে। এতে এলাকায় চর্ম ও পানিবাহিত বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, মোংলা পৌরসভায় ২০১২ সালে শহরতলির কুমারখালীর মাছমারা এলাকায় পুকুর খননের মধ্য দিয়ে পানি সরবরাহ প্লান্ট চালু করা হলেও সে পুকুরে এখন পর্যাপ্ত পানি নেই। সূর্যের তাপে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় পৌর কর্তৃপক্ষ এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ করতে পারছে না। পাইপলাইনের মাধ্যমে যে পানি সরবরাহ করা হয় তা অনেকটা ঘোলা ও ময়লাযুক্ত। এ ছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানির গতি খুবই কম। যে গতিতে পানি সরবরাহ করা হয় পৌরবাসীর তা ধরে রাখতে দুর্ভোগের আর শেষ থাকে না। এ পৌরসভায় দেড় লক্ষাধিক লোক বসবাস করায় এখানে প্রায় এক কোটি লিটার পানির প্রয়োজনীতা থাকলেও সরবরাহ করা হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ লাখ লিটার, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল।

এদিকে পৌর শহর ছাড়াও এখানকার গ্রামাঞ্চলে সুপেয় পানির বড় উৎস বড় পুকুরগুলোর পানি প্রচণ্ড তাপদাহে শুকিয়ে গেছে। দু'একটি পুকুরে সামান্য পানি থাকলেও তা অনেকটা লবণাক্ত ও দূষিত হয়ে পড়ায় অনেকে বাধ্য হয়েই তা পান করছে। কয়েকটি বেসরকারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বোতল ও জারে করে সুপেয় পানি বিক্রি করলেও তার মূল্য অনেক বেশি। ২০ লিটারের জারের পানির দাম নেওয়া হচ্ছে ২০ টাকা করে।

সুপেয় পানি সংকট মোকাবিলায় পৌরসভা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ প্লান্ট থেকে কিছু সুপেয় পানি পৌর এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এলাকায় পর্যাপ্ত জলাধার ও পুকুর না থাকায় ভ্রাম্যমাণ প্লান্ট থেকেও পানি সরবরাহে বেগ পেতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিবিতেষ বিশ্বাস জানান, প্রায় প্রতিদিনই চর্ম ও পানিবাহিত রোগের লক্ষণ নিয়ে লোকজন চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। ডায়রিয়ার কারণে অনেককেই হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

মোংলা পৌর নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক নুর আলম শেখ বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে এখন পর্যন্ত পানির সংযোগ দেওয়া হয়নি। যে পানি সরবরাহ করা হয় সেখানেও রয়েছে নানা অনিয়ম। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নেই।

শহরে পানি সমস্যার কথা স্বীকার করে মোংলা পোর্ট পৌরসভার মেয়র শেখ আব্দুর রহমান বলেন, বর্তমান গরমের সময় পাইপলাইনের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ প্লান্টের মাধ্যমে পৌরবাসীকে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পানির সমস্যা সমাধানে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে সুপেয় পানির সংকট থেকে পৌরবাসী অনেকটাই মুক্তি পাবেন।

মন্তব্য করুন