শিবালয়ের যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। যেন নদীতে বালু উত্তোলনের মৌসুম চলছে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার শুরুতেই নদীর তীরবর্তী পাটুরিয়াঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ৫-৬ মাস ধরে অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় বর্ষা মৌসুমে স্থানীয়রা তাদের নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি, ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন।

স্থানীয় লোকজন জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনের কোন অনুমোদন দেয়নি সরকার। এ বালুদস্যু চক্রটি বর্ষা মৌসুম শেষে প্রতি বছর অবৈধভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে বালু বিক্রি করে আসছে। নদী থেকে দিনরাত বালু উত্তোলন করা হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বালু উত্তোলনকারীরা সরকারি রাস্তা কেটে মাটির নিচ দিয়ে ড্রেজারের পাইপ নিয়ে বালু উত্তোলন করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

ওই এলাকার ইসমাইল জানান, উপজেলা প্রশাসনের লোকজন কয়েকটি ড্রেজারের পাইপ ভেঙে দিয়ে ছিলেন। দুই-তিন দিন যেতে না যেতেই রহস্যজনক কারণে আবার বালুদস্যুরা বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছে। নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় এলাকার লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অবৈধভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী ও দলীয় লোকজন হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পান না। বালু উত্তোলনের কারণে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। বর্ষা মৌসুম এলে প্রতি বছর ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। ওই সময় বিপাকে পড়তে হয় বসতবাড়ি ও কৃষিজমির মালিকদের। নদীর ভাঙনের কারণে তাদের ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হয়। গতকাল সোমবার সরেজমিনে ঘুরে ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তেওতা থেকে শুরু করে জাফরগঞ্জ পর্যন্ত ৫-৬ কিলোমিটার রাস্তার নদীতে ১০-১২টি ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার নবগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে কৃষিজমি থেকে ৭-৮টি ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলন করে প্রতিদিন শত শত ট্রাক মাটি বিক্রি করা হচ্ছে।

নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনকারী মুন্না ও মনির জানান, অনেককেই ম্যানেজ করে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসন অভিযানে আসার আগেই তারা অভিযানের সংবাদ পেয়ে যান বলে জানান তারা। এ কারণে তাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবির জানান, কয়েকবার ড্রেজারের পাইপ ভেঙে ফেলা হয়েছিল।

ইউএনও বিএম রুহুল আমিন রিপন জানান, অবৈধভাবে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা ও যমুনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ড্রেজারের পাইপ ভেঙে ফেলা হয়েছে।

মন্তব্য করুন