ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর নবগঙ্গা নদীতে পড়েছে প্রভাবশালী দখলদারদের থাবা। নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা ও ঝিনাইদহের মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে নবগঙ্গা নদী। কালের পরিক্রমায় চুয়াডাঙ্গার মাথাভাঙ্গা নদী থেকে উৎপত্তি হওয়া নদীটি এখন মৃতপ্রায়। চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার বদরগঞ্জ হয়ে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার রিশখালী, সোনাতনপুর, ভুইয়াপাড়া, ভেড়াখালীর মাঝ দিয়ে ঝিনাইদহ দিয়ে নদীটি মিশেছে মাগুরার গড়াই নদীতে গিয়ে। সুদীর্ঘ এই নদীটির ব্যাপক অংশজুড়ে রয়েছে দখলের থাবা। নদের দুই ধারে পড়ে থাকা চর এখন আবাদি জমি। আর ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার সোনাতনপুর, ভুইয়াপাড়া এবং ভেড়াখালী অঞ্চলের নদীর প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা দখল করে করা হচ্ছে মাছ চাষ। নদীর ওই অংশে চারটি স্থানে মাটির বাঁধ দিয়ে করা হচ্ছে এই মাছ চাষ। ফলে প্রবাহ বন্ধ হয়ে ওই অঞ্চলে নদীটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে নদের এই অংশের দুই পাড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি। আর নদীর বিভিন্ন অংশে বাঁধ দেওয়ার ফলে সেচ কার্যক্রম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক।

নদী রক্ষা পরিষদের নেতারা বলছেন, নদীর প্রবাহ বন্ধ করে মাছ চাষের ফলে এক প্রকার একে মেরে ফেলা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে নদী রক্ষার দাবি জানিয়েও কোনো ফল হচ্ছে না।

জানা গেছে, ওই এলাকার জনতা মৎস্যজীবী সমিতির নামে প্রায় ১১ বছর ধরে নদীর ওই অংশে মাছ চাষ করা হচ্ছে। নদের তিন কিলোমিটার এলাকায় অন্তত চারটি স্থানে মাটির বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের জন্য বাঁওড় তৈরি করা হয়েছে। আর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল এই দখলের সঙ্গে জড়িত থাকলেও তারা বলছেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা নিয়ে বৈধভাবেই এই মাছ চাষ করছেন। তবে স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নদীর এই এলাকায় বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের ফলে বিভিন্ন সময় নানাভাবে ওই দখলদারদের কাছে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। সেচ কাজ, মৌসুমে নদীতে পাট জাগ দেওয়াসহ নানা কাজে সাধারণ মানুষকে নদের ত্রিসীমানায়ও যেতে দেওয়া হয় না। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে পানির অতিরিক্ত প্রবাহে নদীর পাড়ের অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার রিশখালী, ভুইয়াপাড়া, সোনাতনপুর ও ভেড়াখালী এলাকায় নদের তিন কিলোমিটার অংশে বাঁধ দিয়ে এই মাছ চাষ করা হচ্ছে। গত কয়েক বছরে বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানির প্রবাহে অন্তত ৫০টি ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়েছে। আর নদীর দু'পাড়ে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শত শত একর ফসলি জমি।

জেলা নবগঙ্গা রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক সাইফুজ্জামান শিমুল বলেন, বছরের পর বছর ধরে জেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব নদী দখলের সঙ্গে জড়িত রয়েছে একশ্রেণির প্রভাবশালী মহল। নদীর ওই এলাকার ইজারাদার সোনাতনপুর জনতা মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা ২০১৯ সালের জুলাই মাসে বাঁওড়টি (নবগঙ্গা নদী) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা নিয়েছি। প্রতি বছর আমরা ছয় লাখ টাকা খাজনা দিয়ে মাছ চাষ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা নাফিস সুলতানা বলেন, নদী দখলমুক্ত করার বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মজিবর রহমান বলেন, ২০১১ সাল থেকে এটি ইজারা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে এটি তিন বছরের জন্য ওই এলাকার একটি মৎস্যজীবী সমিতিকে ইজারা দেওয়া রয়েছে। চলতি বছরের শেষ দিকে ইজারার মেয়াদ শেষ হলে নদীটি আর ইজারা দেওয়া হবে না।

মন্তব্য করুন