কিশোর দেবনাথ, অসাম্প্রদায়িক চেতনার উদ্যমী এক যুবক। কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের সাতাইশকাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি খুলনা শহরের বেসরকারি একটি হাসপাতালের মার্কেটিংয়ে কাজ করেন। বৃহস্পতিবার রাতে কিশোর দেবনাথ তার মোটরসাইকেলে ঈদসামগ্রী নিয়ে মাদারডাঙ্গা এলাকার কর্মহীন গরিব ও অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি যান। ঘুম থেকে ডেকে তুলে তাদের হাতে ঈদসামগ্রী সেমাই, চিনি, দুধ, কিশমিশ ও বাদাম তুলে দেন। যাওয়ার সময় রাতে ওই এলাকার একজন সংবাদকর্মীর সামনে পড়েন তিনি। এ সময় তার ছবি তুলতে গেলে বিনয়ের সঙ্গে তাকে নিরুৎসাহিত করেন। প্রচারবিমুখ এ যুবক অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান।

জানা গেছে, খুলনা শহরে চাকরি করলেও কিশোর দেবনাথের পরিবার গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকে। শুক্রবার ছুটি থাকায় প্রতি বৃহস্পতিবার তিনি সন্ধ্যায় বাড়ি আসেন। প্রতি সপ্তাহে বাড়ি ফেরার আগে সাধ্যের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী কিনে ১০০টি প্যাকেট করে নিয়ে আসেন। করোনাকালীন পাঁজিয়া এলাকার অনেকেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। তাই প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে কর্মহীন হয়ে পড়া ১০০ গরিব ও অসহায় পরিবারের কাছে ওই খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেন। ঈদ সামনে রেখে এ সপ্তাহে তিনি শতাধিক পরিবারের জন্য ঈদসামগ্রী নিয়ে এসেছেন।

এলাকাবাসী জানান, কিশোরের বাবা প্রয়াত কৃষ্ণেন্দু দেবনাথ ওরফে কেষ্ট দেবনাথ ছিলেন একজন জনপ্রিয় যাত্রাশিল্পী। তিনিও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় পরোপকারী মানুষ ছিলেন।

তার আয়ে মা, স্ত্রী ও এক সন্তান নিয়ে মোটামুটি দিন কেটে যায়। হাসপাতালের চাকরির সুবাদে তিনি এলাকার অসুস্থ অসহায়দের চিকিৎসায়ও পাশে থাকেন। এক সময় চিকিৎসার জন্য এলাকার বিপদগ্রস্ত অসুস্থদের নিয়ে খুলনায় যেতে যেতে তিনি ওই হাসপাতালে চাকরি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

কিশোর দেবনাথ জানান, বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও যাওয়া-আসার মধ্যে নিজের এলাকার কর্মহীন মানুষের অসহায়ত্ব চোখে পড়ে। এ কারণে করোনাকালে বিশেষ করে লকডাউন ও রোজার মধ্যে মানুষ বেশি বিপাকে পড়েছেন। তাই ঈদ সামনে রেখে বৃহস্পতিবার রাতে শতাধিক অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধ্যমতো ঈদসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন।

ইউপি সদস্য খলিলুর রহমান বলেন, করোনার মধ্যে মাদারডাঙ্গা ও বেলকাটি গ্রামের হিন্দু, মুসলিম শতাধিক অসহায় পরিবারকে কিশোর সহযোগিতা করেছেন। তার কর্মকাণ্ডে অসহায় মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

পাঁজিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মুকুল বলেন, কিশোরের বাবা ছিলেন পরোপকারী মানুষ। ছেলে কিশোর তার মতোই হয়েছে। উপকার করার জন্য আমার কাছেও বিভিন্ন সময় নিঃস্ব মানুষের ঠিকানা চায়।

মন্তব্য করুন