হকুমিল্লার তিতাসে প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে এসে পিটুনিতে প্রাণ যায় মো. আরিফ হোসেনের। ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি সজলের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আমলি আদালত-৩-এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সারমিন রিমার কাছে সজল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। সজল ভাটেরারচর গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। গত বুধবার রাতে ঢাকার মুগদা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

৪ মার্চ রাতে তিতাসের ভাটেরারচর গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে তার সঙ্গে দেখা করতে আসে দাউদকান্দি বাজারের গার্মেন্টের কাপড় ব্যবসায়ী সবজিকান্দি গ্রামের মৃত বজলুল হকের ছেলে মো. আরিফ হোসেন। স্থানীয় লোকজন ওই নারীর বসতঘরে আরিফকে আটক করে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পিটুনি দিয়ে গুরুতর আহত করে। রাতেই আরিফকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় ৬ মার্চ নিহতের বোন বাদী হয়ে প্রেমিকাসহ ১৭ জনকে আসামি করে তিতাস থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মধুসূদন সরকার বলেন, ঘটনার দিন নিহত আরিফ ও মফিজ দু'জনে দাউদকান্দি থেকে একই সিএনজি দিয়ে ভাটেরারচর গ্রামে আসে। আরিফের সঙ্গে মিষ্টির প্যাকেট থাকায় সিএনজির মধ্যে মফিজ জানতে চায় কোথায় যাবেন। তখন আরিফ বলে ভাটেরারচর সৌদি প্রবাসী মুক্তার হোসেনের বাড়িতে। মফিজ ও মুক্তার হোসেন একই বাড়ির বাসিন্দা। মুক্তার হোসেনের বাড়ির সামনে মফিজ সিএনজি থেকে নেমে গেলেও আরিফ বসে ছিল। তখন মফিজ প্রশ্ন করেছিল আপনি নামবেন না। তখন আরিফ উত্তর দেয়, এখানে না। আমি আরও সামনে যাব। কিছুক্ষণ পর মফিজ বাড়ির পাশে সেতুর ওপরে মিষ্টির প্যাকেটসহ আরিফকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এতে মফিজের মনে সন্দেহ হয়। মফিজ বিষয়টি তাদের পাড়ার সজলসহ আরও চার-পাঁচজনকে জানায়।

এদিকে আরিফ প্রেমিকার ঘরে প্রবেশ করার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওত পেতে থাকা মফিজ, সজলসহ চার-পাঁচজন লোক ওই ঘরে প্রবেশ করে। ভেতরে লোক আছে কিনা দেখতে গিয়ে মিষ্টি প্যাকেটটি তাদের চোখে পড়ে। এতে ওই নারীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে পুনরায় তল্লাশি চালায়। তখন ঘরের ভেতর কাঠের লাকড়ি ঘেরা স্তূপ থেকে আরিফকে দেখতে পায় এবং টেনে-হিঁচড়ে বের করে। এতে উত্তেজিত হয়ে ওই প্রবাসীর স্ত্রী চিৎকার করলে মফিজ, সজলসহ উপস্থিত লোকজন আরিফকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পিটুনি দেয়। এতে আরিফ আহত হলে মুমূর্ষু অবস্থায় রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।

তিতাস থানার ওসি সুধীন চন্দ্র দাস বলেন, সজল এজাহারভুক্ত আসামি না। পুলিশের তদন্তে সজলের বিষয়টি উঠে আসে। তখন খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ঘটনার পর থেকে সজল এলাকা ছাড়া। মোবাইল নেটওয়ার্ক ও সোর্সের মাধ্যমে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ঢাকার মুগদা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মগোপনে থেকে সে মুগদা এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করত।

মন্তব্য করুন