যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে দেশে ফেরা ১৪০ জন পাসপোর্টধারী যাত্রীকে সাতক্ষীরা শহরের তিনটি আবাসিক হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। গত বুধবার সন্ধ্যায় দেশে আসা এসব যাত্রীর মধ্যে ৫০ জনের একটি দলকে আবাসিক হোটেল উত্তরা ও বাকিদের টাইগার প্লাস এবং হোটেল আল কাশেমে রাখা হয়েছে। তবে টাকার অভাবে অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানিয়েছেন এসব যাত্রী।

দেশে ফেরা যাত্রীদের প্রত্যেকেরই পাসপোর্ট সাতক্ষীরা সদর থানায় জমা রাখা হয়েছে।

তাদের বাড়ি সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন স্থানে।

এদিকে, ভারতে মহামারি করোনার ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা যাত্রীদের সাতক্ষীরা শহরের বিভিন্ন হোটেলে রাখার খবরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন জেলার সাধারণ মানুষ।

প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের কাছে কোনো টাকা নেই। অথচ নিজ খরচে থাকা-খাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে। বেশিরভাগ যাত্রী কোনো না কোনো রোগে আক্রান্ত। অনেকেই ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগী। তাই খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তারা আরও জানান, ভারতে তারা বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আটকা পড়েন। ৫ মে দেশে ফিরে রাতে হোটেলে ওঠেন। হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, হোটেল ভাড়া দিতে হবে। তাদের অনেকের ওষুধ ফুরিয়ে গেছে। ওষুধ কেনার টাকা নেই। সব মিলিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ব্যাপারে তারা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাতক্ষীরা টাইগার প্লাস হোটেলের ম্যানেজার আতীক বলেন, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন ভারতফেরত ৪১ পাসপোর্ট যাত্রীদের আমাদের হোটেলে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রেখেছে। আমারদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, হোটেল ভাড়া ওই সব পাসপোর্ট যাত্রীরাই বহন করবেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা এসব যাত্রী এখন বলছেন তারা হোটেল খরচ বহন করতে পারবেন না। তিনি বলেন, সাতক্ষীরার বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাদের খাবারের ব্যবস্থা করছে। একেকজন একেক দিন খাদ্য সরবরাহ করছে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল জানান, ভারত থেকে বেনাপোল কাস্টমস অফিস দিয়ে দেশে ফেরা ১৪০ জন বাংলাদেশি সাতক্ষীরায় অবস্থান করছেন। জেলা শহরের তিনটি আবাসিক হোটেলে তাদের রাখা হয়েছে। তারা সরকারের কাছ থেকে বিশেষ পাস নিয়ে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি হাইকমিশনে বন্ড দিয়ে শর্তসাপেক্ষে দেশে ফিরে এসেছেন। শর্ত অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন যেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করবে, সেখাইে তাদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে এবং তারা নিজ খরচে থাকবে। দেশে ফেরার আগে তারা এসব শর্তে রাজি হয়ে দেশে ফিরেছে। তাদের কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন