আশামনি যে একাদশ শ্রেণিতে পড়ে তা প্রথম দেখাতে অপরিচিত যে কারও পক্ষে বুঝতে পারা মুশকিল হতে পারে। বয়স অনুযায়ী শারীরিক উচ্চতা কম (প্রায় তিন ফুট) হওয়াই তার মূল কারণ। তবে শারীরিক উচ্চতা তার কাছে তুচ্ছ। কাজই তার কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান। পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে এ বয়সেই তাকে নিতে হয়েছে মা-বাবা, এক ভাই ও চার বোনের (ছয় বোনের মধ্যে দু'জনের বিয়ে হয়ে গেছে) ভরণপোষণের কঠিন দায়িত্ব। তাই তাকে খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে কিছু খেয়ে না খেয়ে চলে যেতে হয় গ্রামের বাজারে। সেখানে সরকারি জায়গায় রয়েছে তার দোকান। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ শাকসবজিও বিক্রি হয় তার দোকানে। সকাল ৮টার মধ্যেই বেচাকেনার পাট চুকিয়ে যায় এখানে। সারাদিন তেমন বিক্রি না হলেও বিকেল থেকে রাত ৮-৯টা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা। এ থেকে যা আয় হয় তা দিয়েই চলে তাদের সাত সদস্যের সংসার। আশামনি আক্তার ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দেওলা গ্রামের মো. সেতু মিয়ার মেয়ে।

আশামনি গেল এসএসসি পরীক্ষায় জয়শ্রী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক বিভাগে পাস করার পর এখন বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজে একাদশ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। কয়েক বছর ধরে তার মা অসুস্থ। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও হারিয়েছেন। তার বাবা বিভিন্ন জলমহালে বছরের অর্ধেক সময় কাজ করেন। বাকি সময় কোনো কাজ না থাকায় সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। মাত্র এক শতাংশ জায়গায় ছোট একটি চাপরা ঘরে তাদের বসবাস। বাবার আর্থিক অনটন দেখে দশম শ্রেণি থেকেই উিউশনি শুরু করেছিলেন আশামনি। এ থেকে কিছুটা আয় হতো সংসারে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে বন্ধ হয়ে যায় টিউশনি। তবুও দমে যাননি আশামনি। সুযোগ খোঁজেন বিকল্প কর্মসংস্থানের।

টিউশনির জমানো ১৪ হাজার ও মামার কাছ থেকে নেওয়া ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২৪ হাজার টাকা নিয়ে দেওলা বাজারে মাস ছয়েক আগে ব্যবসা শুরু করেন। তার বাবা উপজেলা সদর থেকে তার দোকানের মালপত্র নিয়ে আসেন। আর বেচাকেনা, হিসাব-নিকাশের সবটুকুই নিজ হাতে সামলান আশামনি। এ ব্যবসা থেকে সংসার চললেও মায়ের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সুদে আনা ৪০ হাজার টাকার মতো ঋণ হয়েছে তার।

আশামনি আক্তার বলেন, 'আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোনকে অল্প বয়সে বিয়ে দিতে হয়েছে। আর্থিক সহযোগিতা পেলে ঋণ পরিশোধের সুযোগ হতো। চাকরির জন্য কম্পিউটার শিখতে চাই। যদিও প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছি। তবুও পরিবারের খরচ মিটিয়ে কম্পিউটার শেখা হয়ে উঠছে না। চাকরি করে পরিবারকে আরও সহযোগিতা করতে চাই।'

মন্তব্য করুন