আধুনিকতার সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে এমনিতেই ধুঁকছিল তাঁতশিল্প। তার মাঝেই সংক্রমণের থাবা বসালো করোনাভাইরাস। ফলে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের তাঁতপল্লিগুলোয় চলছে সুনসান নীরবতা। করোনার সংকটে পড়ে কাপড় বিক্রি করতে না পেরে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে তাঁত কারখানাগুলো। এতে আর্থিক সংকটে পড়েছেন এখানকার তাঁত মালিকরা।

সরেজমিন ডাঙ্গা ইউনিয়নের তাঁতপল্লিগুলো ঘুরে দেখা যায়, অনেকটা নিঃশব্দ অবস্থায় রয়েছে তাঁত কারখানাগুলো। দুই বছর আগেও যে গ্রামগুলোতে তাঁত মেশিনের ঠুকঠাক শব্দে মুখর ছিল, ছিল কর্মব্যস্ততা। কিন্তু এখন আর নেই সেই শব্দ। অধিকাংশ তাঁত মেশিনগুলো রয়েছে বন্ধ। কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন গ্রামের হাজারো তাঁত শ্রমিক।

ডাঙ্গা ইউনিয়নের কেন্দুয়াব, তালতলা ও হাসনহাটা গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস তাঁতশিল্প। দীর্ঘদিন ধরে কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মালিকপক্ষ, অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন পার করতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

কেন্দুয়াব গ্রামের রহমতউল্লা টেক্সটাইলের মালিক আল মাহমুদ জানান, করোনার সংকটের কারণে তার কারখানার ছয়টি তাঁত মেশিন তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। মেশিন বন্ধ থাকায় আয়-উপার্জনও হচ্ছে না। এ ছাড়া শ্রমিকদের বেতন দিতে না পারায় তাদেরও বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।

ইউসুফ টেক্সটাইলের মালিক হিরন মিয়া জানান, করোনার কারণে এক বছর ধরে ব্যবসায়ীরা কারখানাগুলো থেকে কাপড় সংগ্রহ করছে না। আর এসব কাপড় বিক্রি করতে না পেরে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এখানকার তাঁত মালিকদের। এ ছাড়া লকডাউনের কারণে তাঁতের প্রয়োজনীয় সুতা ও মেশিনারির মালপত্রও পাচ্ছেন না তারা।

তালতলা গ্রামের বাদশা টেক্সটাইলের মালিক বাদশা মিয়া জানান, তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কারখানা চালু করেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে কারখানা বন্ধ থাকায় এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে। একই গ্রামের তাঁতশ্রমিক জামান মিয়া, জহির মিয়া, সাত্তার হোসেন, আবু তাহেরসহ একাধিক শ্রমিক জানান, তাঁত কারখানাগুলো বন্ধ থাকায় কর্ম হারিয়ে তারা এখন মানবেতর জীবন পার করছেন। অভাব-অনটনে পড়ে অনেকেই রিকশা চালিয়ে অথবা দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা ইয়াসমিন জানান, করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত তাঁতশিল্পীদের দ্রুত সরকারি প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন