এমনিতেই কাঁচা সড়ক। বর্ষায় উভয়পাশে হাওরের পানিতে সড়কের হয় বেহালদশা। প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের তিনটি স্থানে রয়েছে নিচু ভাঙা অংশ। বছরের বেশির ভাগ সময় সেখানে পানি জমে থাকায় ওই তিনটি স্থানে উপযোগিতা তৈরি হয় সেতু নির্মাণের। তিনটি স্থানে সেতু নির্মাণও হয়েছে। কিন্তু সেতুগুলোর উভয়পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় তা কাজে আসছে না পথচারীদের। শুকনো মৌসুমে সেতুর পাশ দিয়ে কোনো রকমে যাতায়াত করতে পারলেও বর্ষায় পড়তে হয় বিপাকে। তখন বাঁশের মই দিয়ে ওঠানামা করতে হয় সেতুতে। এমন তিনটি সেতুর দেখা মিলবে ধর্মপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও থেকে রাজধরপুর গ্রাম পর্যন্ত একটি গ্রামীণ সড়কে। ফলে তিনটি সেতুর উভয়পাশে মাটি ফেলে সংযোগ সড়ক নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

নোয়াগাঁও গ্রামের সামনে একটি, নোয়াগাঁও ও মহদীপুর গ্রামের মধ্যবর্তী স্থানে একটি এবং রাজধরপুর গ্রামের সামনে আরও একটি সেতু রয়েছে। সেতুগুলো পৃথকভাবে উপজেলা এলজিইডি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে কয়েক বছর আগে নির্মিত হয়েছে। কিন্তু প্রতিটি সেতুরই উভয়পাশে এখন মাটি নেই। নোয়াগাঁও গ্রামের সামনের সেতুতে বর্ষায় স্থানীয়রা বাঁশের মই দিয়ে সেতু ব্যবহার করেন। সড়কের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সেতুর উভয় পাশেও মাটি নেই। ফলে সেতুতে ওঠার কোনো সুযোগ নেই কারও। রাজধরপুর গ্রামের সামনে অবস্থিত সেতুর পূর্বপাশ দিয়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মিত হওয়ায় স্থানীয়রা বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচল করছে। সংশ্নিষ্টরা বলছেন, গেল বছরের বন্যায় সেতুগুলোর অ্যাপ্রোচের মাটি সরে গিয়ে সংযোগ সড়ক বিনষ্ট হয়েছে। তবে সংযোগ সড়ক না থাকায় বর্ষায় বাধ্য হয়ে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হয় কয়েকটি গ্রামের মানুষকে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

দেওলা গ্রামের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, 'সংযোগ সড়কের অভাবে তিনটি সেতুই কোনো কাজে আসছে না। ফলে উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গিয়ে দেওলাসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে।'

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রজেশ চন্দ্র দাস বলেন, 'সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ইতোমধ্যে আমরা চিঠি পেয়েছি। আশা করি দ্রুত কাজ করা যাবে।'

উপজেলা এলজিইউডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লাহ খান বলেন, 'গেল বছরের বন্যায় সেতুগুলোর উভয় পাশের মাটি সরে গিয়ে এমনটি হয়েছে। দ্রুত সেতুর অ্যাপ্রোচের দুইপাশে মাটি ভরাট করতের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।'

মন্তব্য করুন