রূপগঞ্জ উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নে সড়ক নির্মাণকাজে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার সড়ক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় ভোগান্তির যেন শেষ নেই। নির্মাণকাজের ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। দ্রুত সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না করা হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বৃহৎ আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে এলাকাবাসী। সড়ক নির্মাণে ধীরগতির কারণে সড়কগুলো বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। এতে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বেহাল রাস্তা দিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এ ইউনিয়নের বেহলা সড়কগুলো নতুন করে নির্মাণের দাবি ছিল এলাকাবাসীর অনেক দিনের। এ নিয়ে এলাকাবাসী স্থানীয় সংসদ সদস্য পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীসহ (বীরপ্রতীক) উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটুর চেষ্টায় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীসহ (বীরপ্রতীক) সকলের সহযোগিতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৯ সালের শেষ দিকে স্বর্ণখালী বাজার-ছনপাড়া ৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা ৪ দশমিক ৬০ কিলোমিটার সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার-ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়ক ও এর সঙ্গে ৫টি ছোট ব্রিজের জন্য ৫৪ কোটি ৭৭ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩ টাকা ব্যয়ের দরপত্র সম্পন্ন হয়। এ সড়ক তিনটির দরপত্র পায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেবি অফ এনসিইএল-পিডিএল। দরপত্র শেষে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর থেকে মোট প্রায় ১৬ কিলোমিটার সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ধীরগতিতে রাস্তাটির নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২১ সালের ২৯ জুন সড়কগুলোর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও সিংহভাগ রাস্তা নির্মাণই বাকি রয়েছে। দুই মাসের মধ্যে সিংহভাগ বাকি কাজ শেষ হবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছে উপজেলা প্রশাসন।

উপজেলার ভোলাব ইউনিয়নের স্বর্ণখালী বাজার-চনপাড়া সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার-ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত তিনটি সড়কের প্রায় মোট ১৬ কিলোমিটার সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ চলাচল করে। এ তিনটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় ছিল। রাস্তার মাঝে ছোট-বড় খানাখন্দে ভরপুর ছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেহাল রাস্তা নির্মাণের দরপত্র হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতিতে সড়কের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির যেন অন্ত নেই। দ্রুত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানায় এলাকাবাসী। নয়তো প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের সব পণ্য বর্জন করবে বলে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বর্ণখালী বাজার-চনপাড়া ৭ দশমিক ৩০ কিলোমিটার সড়ক, আতলাপুর-ডাঙ্গা ৪ দশমিক ৬০ সড়ক ও স্বর্ণখালী বাজার-ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত ৩ দশমিক ৯ কিলোমিটার সড়কে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি রাস্তার কাজের জন্য রাস্তা কেটে রাখলে রাস্তাটির নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছে। এতে সাধারণ মানুষকে সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভোলাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, বেশ কয়েকবার প্রাণ-আরএফএলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটিকে সড়কগুলো নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। আমি বেশ কয়েকবার প্রাণ-আরএফএলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সড়ক তিনটি নির্মাণ শেষ করতে বললেও তারা তা করেনি। রাস্তা নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় রাস্তাগুলো নির্মাণ শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রকৌশলী জামাল উদ্দিন বলেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর (বীরপ্রতীক) নির্দেশনায় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনওসহ আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার মিটিং করেছি। আবার আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিটিং করে ব্যবস্থা নেব।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির প্রজেক্ট ম্যানেজার মোরশেদ আলম বলেন, সড়ক নির্মাণে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। আমরা যতবারই রাস্তাগুলোর কাজ করতে গিয়েছি ততবারই স্থানীয় লোকজন বাধা প্রদান করে। এ কারণে আমরা কাজ করতে পারিনি। সড়কগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে গত ৩ মে উপজেলা চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গে মিটিং করেছি। তারা যেভাবে আমাদের গাইডলাইন দিয়েছেন আমরা সেভাবেই কাজ করব।

পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীরপ্রতীক) বলেন, কাজ সমাপ্ত করার জন্য বার বার চাপও দেওয়া হচ্ছে। সময় মতো কাজ সমাপ্ত করতে না পারলে বা অবহেলা করলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন