বেলাব হোসেন আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা এবং তদন্তের অভিযোগের পরও তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্বপদে বহাল রয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তদন্ত কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য একাধিকবার তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে না কোনো ব্যবস্থা।

বীরেশ্বর চক্রবর্তী ২০১০ সাল থেকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ২০১৩ সাল থেকে কলেজটির অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনকালে তিনি অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধভাবে মনগড়া গভর্নিং কমিটি গঠন, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

তিনি ২০১০ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত কলেজের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব দেননি। ২০১৪ সালের সরকারি অডিট রিপোর্টে তিন মাস পরপর তিনজন শিক্ষকের সমন্বয়ে অডিট কমিটি গঠন করে অভ্যন্তরীণ অডিট করার নির্দেশ থাকলেও তিনি তা করাননি। তা ছাড়া ভর্তি রসিদ, ফরম পূরণের রসিদসহ সেশন ফি ও জরিমানা রসিদ না কেটেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন তিনি। ২০১৮ সালে পরিচালিত অডিটে ১১ লাখ ৫৭ হাজার ৬৭৯ টাকা কলেজ তহবিল থেকে অধ্যক্ষ আত্মাসৎ করেছেন বলে তদন্ত কমিটির তদন্তে প্রমাণিত হয় এবং ২০২১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি তিন লাখ টাকা তিনি কলেজ তহবিলে ফেরত দেন। করোনাকালীন অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ থাকলেও তিনি তা করেননি এবং পুরো সময় কলেজটি তালাবদ্ধ ছিল।

এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা রাজিয়ার আমলে শিক্ষা বোর্ডের বিধি না মেনে নিজের ইচ্ছামতো গভর্নিংবডি গঠন করেন, যা তদন্তে প্রমাণিত হওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

পরে ইউএনও সুলতানা রাজিয়া বদলি হওয়ার পর ২০১৯ সালে কলেজের ২৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের সভাপতি উম্মে হাবিবার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কলেজের সভাপতি ২০১৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১২৬নং স্মারক মূলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র প্রেরণ করেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ৩ তারিখ নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আ. মতিন মিয়ার নেতৃত্বে পুনরায় তদন্ত করা হয়। কিন্তু তদন্তের দুই বছর অতিক্রম হওয়ার পরও রহস্যজনক কারণে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবার বদলি হলে নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামিমা শারমিন ২০২১ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে পুনরায় আরেকটি পত্র প্রেরণ করেন। কিন্তু এখন ওই তদন্ত প্রতিবেদনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি।

কলেজের অভিযোগকারী শিক্ষকদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তার বিরুদ্ধে সংশ্নিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ বীরেশ্বর বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হচ্ছে, এগুলোর তদন্ত রিপোর্ট হাতে না এলে আমি কিছুই বলতে পারব না। তদন্ত রিপোর্ট এলে রিপোর্ট দেখে আমি জবাব দেব।

বেলাব উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. মতিউর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ বীরেশ্বর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন এলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন