করোনার কারণে কাজ নেই, ঘরে প্রতিবন্ধী সন্তান। এ অবস্থায় অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে কোনো রকমে চলছে পরশ আলীর সংসার। আর মাত্র এক দিন পর ঈদ। কিন্তু তার পরিবারে নেই কোনো ঈদের আনন্দ।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের কাংসা গ্রামের বাসিন্দা পরশ আলী। মদনপুর সাজিউড়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে গতকাল মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খাদ্য সহায়তা নিতে গেলে কথা হয় তার স্ত্রী কমলা বেগমের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা গবির মানুষ, কোনো রকমে চলে আমাদের সংসার। ছেলে বিদ্যা মিয়া প্রতিবন্ধী। করোনার কারণে কাজ নেই স্বামীর। বয়সও হয়ে গেছে। এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। খুব কষ্ট করে চলতে হয় আমাদের।

কমলা বেগম জানান, তার স্বামীর নিজের থাকার কোনো জায়গা জমি নেই। গুচ্ছগ্রামে একটি ছোট ঘরে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী বৃদ্ধ পরশ আলী বাঁশ-বেতের কাজ করে সংসার চালাতেন। করোনার কারণে সেই কাজ বন্ধ। চেয়ে-চিন্তে কোনোমতে সংসার চলে তাদের। মাঝেমধ্যেই থাকতে হয় না খেয়ে। এর মধ্যে আবার সাত বছরের সন্তান বিদ্যা মিয়াও শারীরিক প্রতিবন্ধী। এ অবস্থায় সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। তার মধ্যে ঈদ উদযাপন করার কথা চিন্তাই করা যায় না।

জেলা প্রশাসক কাজি মো. আবদুর বলেন, পরিবারটির সমস্যার কথা শুনেছি। তাদের সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হবে ওই পরিবারটিকে।

এদিকে নাটোরের বড়াইগ্রামে প্রবাসী বাবাকে হারিয়ে ঈদের খুশি নেই বীথিদের ঘরে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির মৃত্যুতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মা-মেয়ে। বীথি উপজেলার জোনাইল ইউনিয়নের ইন্দ্রাপাড়া গ্রামের প্রবাসী শফিকুল ইসলামের মেয়ে এবং জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা যায়, শফিকুল ইসলাম দিনমজুরের কাজ করতেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে নিয়ে চারজনের সংসার। সঞ্চয়ের সবটুকু দিয়ে বড় মেয়েকে বিয়ে দেন। স্বপ্ন ছিল ছোট মেয়ে বীথিকে ভালো করে পড়ালেখা করাবেন। তাই পরিবারের সচ্ছলতা আনতে ঋণ করে সৌদি আরব পাড়ি জমান। তার উপার্জনের টাকায় সংসার চলছিল। প্রবাসে হঠাৎ করে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আহত হন শফিকুল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ মার্চ তার মৃত্যু হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে শফিকুলের মেয়ে বীথি জানায়, তাকে নিয়ে বাবার অনেক স্বপ্ন ছিল। সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করছিল সে। কিন্তু এখন পড়ালেখা দূরে থাক, দু'মুঠো ভাতের চিন্তায় অস্থির থাকতে হয়।

জোনাইল এমএল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশিকুর রহমান বলেন, বীথি লেখাপড়ায় ভালো। সে যাতে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে, সে বিষয়ে তার খরচের বিষয়ে স্কুল থেকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।

জোনাইল ইউপি চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক বলেন, বীথির পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন