নিজেদের প্রেমকে স্মরণীয় করে রাখতে কতজন কত কিছুই না করেন। প্রেমিকযুগলের এসব মধুর পাগলামি নানা আলোচনার জন্ম দেয়, অনেক ক্ষেত্রে বিখ্যাত হয়ে ওঠে। এবার প্রেমকেন্দ্রিক এমনই এক আলোচিত ঘটনা ঘটেছে তাড়াশে।

চলনবিলের গুরুদাসপুরে শহীদ শামসুজ্জোহা ডিগ্রি কলেজে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে পড়তে গিয়ে একই বিভাগে অধ্যয়নরত তানজিলা আক্তার বীথির (২৩) সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন সাগর মণ্ডল (২৩)। দু'জনে সিদ্ধান্ত নেন তাদের প্রেমকে অমর করতে তারা হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করবেন।

তানজিলা সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলার মাকড়শোন গ্রামের তোজাম্মেল হকের মেয়ে। নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলার মশিন্দা বাহাদুরপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ছেলে সাগর। দু'জনই পরিবারের অভিভাবকদের তাদের ভালোবাসার বিষয়টি জানান। দুই পরিবারের অভিভাবকরা বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করেন ঈদের দু'দিন পর রোববার।

বর সেজে হাতির পিঠে চড়ে প্রেমিকা তানজিলাকে বিয়ে করে ৩০ হাজার টাকায় একদিনের জন্য একটি হাতি ভাড়া করেন।

দুপুর নাগাদ হাতির পিঠে চড়ে বর সাগর বরযাত্রীদের গাড়ি বহরের সঙ্গে বিকেলে মাকড়শোন গ্রামের কনে তানজিলার বাড়িতে পৌঁছান।

হাতির পিঠে চড়ে বর আসার খবরে কনের গ্রাম মাকড়শোন ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি গ্রামের উৎসুক লোকজন ভিড় জমায়। এ সময় দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে কনের বাড়ির লোকজন হিমশিম খান। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করতে আসা সাগর রুমালে মুখ ঢেকে লজ্জা আর উচ্ছ্বাসে জানান, প্রেমকে অমর করতে  কতজনই তো কত কী করেন। যেমন সম্রাট শাহজাহান প্রিয়তম মমতাজের জন্য তাজমহলই নির্মাণ করেছিলেন। আর আমার ও তানজিলার বিয়ে মনে রাখার মতো করতে এটা ক্ষুদ্র একটা প্রয়াস মাত্র। অন্যদিকে বরযাত্রী আবুল হোসেন, সোহরাব মণ্ডল এবং কনে বাড়ির ছারোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস হোসেন জানান, এ অঞ্চলে হাতির পিঠে চড়ে বিয়ে করার ঘটনা এর আগে ঘটেনি। তাই বিষয়টি আনন্দ ও উপভোগের ছিল।

মন্তব্য করুন