ডুমুরিয়ায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি বরাদ্দের টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বেড়িবাঁধটি নিম্নমানের হওয়ায় ভদ্রা নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে বাঁধ ভেঙে দুটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে শত শত বাড়িঘর, চিংড়ির খামার ও ফসলি জমি। গত ১৫ দিনেও ওই বাঁধ সংস্কার করা হয়নি। গ্রাম দুটির ১০৯ পরিবারের সবাই গ্রামছাড়া।

ঘটনাটি ঘটেছে ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া ও বাঁশতলা এলাকায়। বেড়িবাঁধ নির্মাণে সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৮৫ লাখ টাকার কাজ মাত্র ৩ লাখ টাকায় শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গ্রামবাসী খুলনা জেলা প্রশাসক ও ডুমুরিয়ার ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে।

জানা গেছে, চলতি অর্থবছর উপজেলার সাহস ইউনিয়নের লতাবুনিয়া ও বাঁশতলা গ্রাম প্রতিরক্ষা দুর্বল বাঁধ নির্মাণে ৮৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা এলজিইডি থেকে বরাদ্দ পাওয়া যায়। একই এলাকায় লতাবুনিয়া-বাঁশতলা 'পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি'র মাধ্যমে ওই বাঁধ নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, সংশ্নিষ্ট সমিতির সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক কমলেশ বালা, সাবেক সভাপতি দিলীপ মণ্ডল, স্থানীয় ইউপি সদস্য শংকর গাইন, আখিল, বাসুদেব ও কৌশিকের যোগসাজশে সময়মতো কাজ না করে সরকারি বরাদ্দের অর্থ নয় ছয় করা হয়েছে। ফলে দুর্বল বেড়িবাঁধ ভদ্রা নদীর জোয়ারের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

চলতি মাসের ২ তারিখ ভদ্রা নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে লতাবুনিয়া ও বাঁশতলা গ্রাম প্রতিরক্ষা বাঁধ কয়েকটি স্থানে ভেঙে যায়। এ সময় ওই দুটি গ্রামের কয়েকশ বাড়িঘর, দুটি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ হাজার হাজার হেক্টর জমির মাছের ঘের ও পুকুর নোনা পানিতে নিমজ্জিত হয়। গ্রামবাসী অনেকেই ট্রলার বা নৌকায় উঁচু বেড়িবাঁধ বা নিকটআত্মীয়ের বাড়িতে অশ্রয় নিচ্ছে।

ওই গ্রামের দিনমজুর উষা রানী, কৃষক কিরণ বালা, গৃহবধূ আশালতা ও দিপায়ন বালা জানান, সরকারি বরাদ্দের অর্থ ব্যয় না করায় দুর্বল বাঁধ ভেঙে পুরো এলাকা নোনা পানিতে তলিয়ে গেছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। দুটি গ্রামের ১০৯ পরিবারের এখন সবাই গ্রামছাড়া। গ্রাম সংলগ্ন শতাধিক মাছের ঘের ও ৪৫টি পুকুরের মাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতি হয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এলাকায় কোনো সাইক্লোন সেল্টার না থাকায় মানুষ তৎক্ষণিক নিরাপদ স্থানে যেতে পারেনি।

ওই গ্রামে পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সাবেক সভাপতি দিলীপ মণ্ডল ও ইউপি সদস্য শঙ্কর গাইন বলেন, বাঁধ নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ প্রায় ৮৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে মাত্র ৩ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। এ কারণে দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। তবে তারা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।

পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি সুশান্ত মণ্ডল ও সাধারণ সম্পাদক কমলেশ বালা বলেন, বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা করা হচ্ছে।

উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বিদ্যুৎ কুমার দাস বলেন, বাঁধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কাজের মান নিয়ে এলাকায় কথা উঠেছে। এ কারণে কাজের সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

ডুমুরিয়ার ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। সংশ্নিষ্টদের দ্রুত বাঁধ নির্মাণের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য করুন