বাড়ি ভাড়ার বকেয়া টাকার জন্য ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও চার বছরের মেয়েকে দিনভর তালাবন্দি করে রেখেছে বাড়ির মালিক। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনাটি ঘটেছে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দেওভোগ আদর্শ নগর এলাকায়।

আদর্শ নগর এলাকার বাসিন্দা রিপন মিয়া জানান, তিনি এলাকার শুক্কুর মিয়ার বাড়ির ছয়তলায় ভাড়া থাকেন। বাড়িওয়ালার সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্কও রয়েছে। কিন্তু করোনার কারণে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি আর্থিক দুরবস্থায় রয়েছেন। তিনি একটি ইট-বালুর গদিতে কাজ করলেও লকডাউনের কারণে দুই মাস তার চাকরি নেই। তার চার মাসের ভাড়া বাকি। এ নিয়ে বাড়ির মালিক ও তার দুই ছেলে ফারুক ও রাসেল প্রায়ই এসে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় রিপন বাসায় ছিলেন না। এ সময় বাড়ির মালিক শুক্কুর হাওলাদার একজন মাস্তান প্রকৃতির যুবককে সঙ্গে নিয়ে এসে তার স্ত্রীকে বলে, 'ভাড়া না দেওয়া পর্যন্ত তুমি ও তোমার মেয়ে তালাবন্ধ থাকবে।' এর পর বাড়ির মালিক রিপনের ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে চলে যায়। রিপন অনেক কাকুতিমিনতি করলেও সে ফ্ল্যাটের তালা খোলেনি। পরে রিপন ফতুল্লা থানা পুলিশকে জানালে এসআই হুমায়ুনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে তালা খুলে তাদের মুক্ত করে।

এসআই হুমায়ুন জানান, ভাড়া না দেওয়ায় বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়ার স্ত্রী ও মেয়েকে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল। পরে আমরা গিয়ে তাদের মুক্ত করি। ভাড়াটিয়াকে এ মাসের মধ্যে অর্ধেক ও আগামী মাসের মধ্যে বাকি বকেয়া শোধের সময় দিয়েছে বাড়ির মালিক।

ভাড়াটিয়া রিপন মিয়া জানান, স্ত্রী-সন্তানকে উদ্ধারের জন্য এক মাসের মধ্যে বকেয়া শোধ করব বলে রাজি হয়েছি। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে বকেয়া শোধ করার সামর্থ্য আমার নেই।

মন্তব্য করুন