খুলনার ডুমুরিয়ায় আট বছর আগে ভেঙে গেছে সুখ নদীর ওপরের বাঁশ-কাঠের সাঁকো। এতে দুর্ভোগে পড়েছে উপজেলার মাগুরখালী ইউনিয়নের সাতটি ওয়ার্ডের কয়েক হাজার মানুষ। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে মাগুরখালী ও পশ্চিম পাতিবুনিয়ার সংযোগ সড়কে সুখ নদীর ওপর ছিল সাঁকোটি। সম্প্রতি এলাকাবাসী চাঁদা তুলে সেখানে সাঁকো তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।

সাঁকো ভেঙে যাওয়ার ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বারবার জানানো হলেও কোনো উদ্যোগ নেননি। বরং সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই সাঁকো দিয়ে তার কোনো লোক পারাপার হয় না।

জানা যায়, ২০১৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নেন ওই চেয়ারম্যান। আর বেশিরভাগ এলাকাবাসী 'নৌকার' পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় চেয়ারম্যানের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। মূলত সরকারি অর্থায়নে সাঁকো সংস্কারে অনীহা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। ফলে রাজনৈতিক দলের দ্বন্দ্বের বলি সাধারণ মানুষ। অবশেষে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে সাঁকোটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।

পারমাগুরখালী গ্রামের কানাই লাল সরদার, কৃষক কালিদাস মণ্ডল ও সুভাষ মণ্ডল বলেন, হিন্দু অধ্যুষিত দুর্গম এলাকায় মাগুরখালী ইউনিয়নটি অবস্থিত। ৪০ বছর আগে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে তৎকালীন মাগুরখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রয়াত অতুল কৃষ্ণ সানা ওই সুখ নদীর ওপর একটি কাঠের ব্রিজ নির্মাণ করেন। পরে সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান প্রয়াত কার্তিক চন্দ্র মণ্ডল ওই ব্রিজটি সংস্কার করেছিলেন।

প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান কার্তিক চন্দ্র মণ্ডলের ভাই সুজিৎ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, নিজ অর্থায়নে এবং এলাকার কিছু মানুষের অর্থিক সহায়তা নিয়ে দ্রুত কাঠ-বাঁশের সাঁকোটি সংস্কারের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। আশা করি, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্বের ন্যায় সুখ নদীর ওপর সাঁকোটি দিয়ে মানুষ চলাচল শুরু করবে।

সংশ্নিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ সানা বলেন, সাঁকোটি সংস্কারে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। আপাতত সাঁকোটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছি না। শুনেছি স্থানীয় লোকজন সাঁকোটি সংস্কার করবে।

ডুমুরিয়ার ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিব।

মন্তব্য করুন