আমতলী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের সবুজবাগে অবস্থিত খালটি বালু দিয়ে ভরাট করে পাকা ভবন নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, সবুজবাগ খালের পশ্চিম প্রান্তে লঞ্চঘাট এলাকায় ষাটের দশকে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করার পর প্রবহমান খালটি বদ্ধ জলাশয়ে পরিণত হয়। মুক্তিযোদ্ধা, সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় কিছু উদ্যোক্তা দীর্ঘদিন ধরে এই খালটি ইজারা নিয়ে মাছ চাষ করে আসছেন। এক পর্যায়ে ধীরে ধীরে খালটি দখল হতে শুরু করে। কয়েকদিন ধরে গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ি গ্রামের আলী হায়দারের ছেলে জসিম হাওলাদার বাঁশ এবং চাটাইয়ের বেড়া দিয়ে তাতে বালু দিয়ে ভরাট করে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন।

গত সোমবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, সবুজবাগ খালের অর্ধেক অংশ বাঁশের বেড়া দিয়ে দখল করে তাতে পাকা ভবন নির্মাণ করছেন জসিম হাওলাদার। তার পাশেই রয়েছে খাল দখল করে গড়ে তোলা জালাল মোহরার ঘর। খালের উত্তর প্রান্তও দখল করেছে কয়েকজন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, এই খালটির পানি ব্যবহার করে শতাধিক পরিবার। প্রশাসনের নাকের ডগায় খাল এভাবে দখল-দূষণের কারণে এক সময় অস্তিত্ব হারাবে খালটি। দখলের এ পরিস্থিতি দেখে আমরা হতাশ।

অভিযুক্ত জসিম হাওলাদার খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি রেকর্ডীয় জমিতে ভবন তুলছি। খালের মধ্যে আমার আরও ২ ফুট জমি রয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন শানু জানান, খালটি সমিতির মাধ্যমে ইজারা নিয়ে আমরা মাছ চাষ করেছি। সরকারি খাল যদি এভাবে দখল হয়ে যায় তাহলে ভবিষ্যতে একদিন দখল-দূষণে এর অস্তিত্ব থাকবে না।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব সহকারী কমিশনার ভূমি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরেজমিনে পৌর ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়ার পাঠিয়ে সরকারি জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রেভিনিউ) পীযুষ চন্দ্র দে জানান, আমতলী উপজেলা প্রশাসনকে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেব।

বিষয় : আমতলী

মন্তব্য করুন