কেশবপুর উপজেলার হাসানপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহাতাব মোড়ল। তাকে এলাকার সবাই 'মৌমাছি মাহাতাব' নামে চেনেন। বাঁশির সুরে মৌমাছি কাছে টানার কৌশল রপ্ত করেছেন তিনি। বাঁশির সুরে মাত্র পাঁচ মিনিটেই মৌমাছি হাজির হয় তার শরীরে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন উৎসুক মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করছে।

মাহাতাব মোড়ল ২০ বছর ধরে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ১৪-১৫ বছর বয়স থেকেই মৌচাক থেকে মধু আহরণ শুরু করেন। ওই সময় বালতিতে শব্দ করে চাক থেকে মৌমাছি দূরে সরিয়ে দেওয়ার কৌশল রপ্ত করেন। পরে টিনের থালায় শব্দ করলে মৌমাছি চাক ছেড়ে তার কাছে আসতে শুরু করে। মৌমাছি কাছে আসায় তাদের প্রতি তার ভালোবাসা তৈরি হয়। ভালোবাসার কারণেই মধুর উচ্ছিষ্ট (মধুর ওপরের সর বা গ্যাজা) কাপড়ে লাগিয়ে বাড়ির চারপাশে ঝুলিয়ে রাখেন। ওই কাপড়ে মৌমাছি বসে খাদ্য গ্রহণ করে তার বাড়ির এলাকায় উড়ে বেড়ায়। এক পর্যায়ে তিনি বাঁশিতে সুর তুলে মৌমাছি কাছে  আনতে থাকেন। ওই সুর শুনে এখন হাজারো মৌমাছি তার শরীরে জড়ো হয়।

মাহাতাব মোড়ল জানান, তার বাবা কালাচাঁদ মোড়লের বাড়ি ছিল সুন্দরবন সংলগ্ন কয়রা উপজেলায়। বাবার বৈবাহিক সূত্রে কেশবপুরের মোমিনপুর গ্রামে নানার বাড়িতে তাদের স্থায়ী বসবাস। তিনি সুন্দরবনসহ সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর অঞ্চলে মৌচাক থেকে মধু আহরণ করে থাকেন। এখন বাঁশির সুরে হাজারো মৌমাছি আনতে পারেন। বাঁশির সুরে মৌমাছি বসতে বসতে শরীরে চাকের আকার ধারণ করে। এর জন্য শরীরকে আগে থেকেই প্রস্তুত করতে হয়। তাদের আঘাত না করলে একটি মৌমাছিও শরীরে হুল বসায় না। গত মৌসুম থেকে বাঁশির সুরের এ কৌশল রপ্ত করেছেন বলে তিনি জানান।

সরেজমিন বুধবার বিকেলে তার বাড়িতে গেলে তিনি বাঁশির সুর তুলতেই মৌমাছি তার শরীরে জড়ো হতে শুরু করে। বাঁশির সুর শুনে ঝাঁকে ঝাঁকে মৌমাছি মাহাতাবের শরীরে বসে চাকের আকার ধারণ করে। বাঁশি বাজানো বন্ধ করলে মৌমাছি পাশের বাগানে চলে যায়। এ দৃশ্য দেখতে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় করেন।

মাহাতাব মোড়ল আরও জানান, এতে কোনো তন্ত্রমন্ত্র নেই। শুধু মৌমাছির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এটি করা সম্ভব হয়েছে। মধু আহরণ করেই তার সংসার চলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে।

বিষয় : মৌমাছির বাঁশিওয়ালা

মন্তব্য করুন