প্রীয়শী দাশ ২০১৩ সালে জানুয়ারি মাসে উপজেলার মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্মনিবন্ধন করেন। তার জন্মনিবন্ধনটি এখন অনলাইনে নেই। ফলে নতুন করে জন্মনিবন্ধন করতে তাকে নানা রকমের প্রমাণ সংগ্রহ করতে হচ্ছে। প্রমাণাদি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাকে নানা কিসিমের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মিরসরাইয়ে অনলাইন জন্মনিবন্ধন নিয়ে এভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রহীতারা। এছাড়া নিজের কিংবা সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে গুনতে হচ্ছে সরকারিভাবে ঘোষিত ফি'র কয়েকগুণ বেশি টাকা। তাও সময় মতো হাতে পাচ্ছেন না জন্মনিবন্ধন সনদ।

জানা গেছে, সরকার একজন নাগরিকের জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত নিবন্ধন বিনা ফিতে করে দেওয়ার বিধান রেখেছে। জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিবন্ধন ফি ধরা হয়েছে ২৫ টাকা। পাঁচ বছরের পর থেকে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা। জন্মতারিখ সংশোধন ফি একশ টাকা এবং নাম, বাবা-মার নাম-ঠিকানা সংশোধনের ফি ৫০ টাকা। কিন্তু উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ ও ইউপি সেন্টারের তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলো সরকারের নির্ধারিত ফি আদায়ের নির্দেশনা মানছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলো নিবন্ধন ফি তিনশ থেকে বারোশ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে।

আলমগীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি হিংগুলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তার নিজের, স্ত্রী ও তিন সন্তানের জন্মনিবন্ধন করেন ২০১২ সালে। অনলাইন থেকে তার প্রথম সন্তানের নিবন্ধন সনদ বের করতে তার কাছ থেকে বারোশ টাকা নেওয়া হয়েছে। এরপর প্রতিটি জন্মনিবন্ধনের জন্য তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫শ টাকা করে। তিনি বলেন, সংশ্নিষ্টরা সরকারি ফির কয়েকগুণ বেশি টাকা আদায় করছে।

খইয়াছড়া ইউনিয়নের আব্দুর রহিম জানান, তার ৮ মাস বয়সী সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে বিনা রসিদে আদায় করা হয়েছে তিনশ টাকা। অথচ তার সরকারিভাবে জন্মনিবন্ধন ফি মাত্র ২৫ টাকা।

কাটাছড়া ইউনিয়নের আবুহাট এলাকার রনি নাথ জানান, তিনি তার দুই সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে তথ্যকেন্দ্র গেলে সংশ্নিষ্ট উদ্যোক্তা তাকে তার জন্মনিবন্ধন, বাবা, মা, শ্বশুর, শাশুড়ির জন্মনিবন্ধন অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে বলেন। বাবা, মা, শ্বশুর, শাশুড়ি মারা যাওয়ার কারণে তাদের প্রত্যেকের জন্য জনপ্রতি ৫শ টাকা করে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ সংগ্রহ করতে বলেন। পেশায় অটোরিকশা চালক রনি নাথ বলেন, সন্তানদের জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে এত টাকা ব্যয় করা তার পক্ষে অসম্ভব। এরপর আবার দুই সন্তানের জন্মনিবন্ধন করতে খরচ হবে চারশ টাকা।

এ সব বিষয়ে কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, সার্ভারের সমস্যার কারণে নাগরিকদের জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে গিয়ে কোনো কোনো দিন দুই-তিনটির বেশি করতে পারেন না। সার্ভারের সমস্যার কারণে গ্রহীতাদের সময় মতো সনদও দেওয়া যায় না। তাই সরকারি ফির বাইরে প্রতিটি জন্মনিবন্ধনে এক থেকে দেড়শ টাকা বেশি নেওয়া হয়। এছাড়া সরকারিভাবে নির্দেশনা দেওয়া কাজগপত্র আনতে বলাকে মানুষ হয়রানি মনে করে।

মঘাদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিকাশ ধর জানান, যেসব জন্মনিবন্ধন পরিষদ থেকে করা হয়েছে কিন্তু অনলাইনে হয়নি সেগুলো নতুন করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। এখন পুরোনো জন্মনিবন্ধন অনলাইনে দেওয়ার সুযোগ নেই। পরিষদ থেকে দেওয়া জন্মনিবন্ধন কেন অনলাইনে হয়নি তা তিনি বলতে পারেননি।

মিরসরাইয়ের ইউএনও মিনহাজুর রহমান বলেন, জন্মনিবন্ধন অনলাইনে করতে বাড়তি টাকা নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে লোকজন ফোনে জানাচ্ছেন। সরকারি ফির বাইরে প্রতি নিবন্ধনের জন্য উদ্যোক্তারা ৫০-১০০ টাকা বেশি নিতে পারেন, কিন্তু পরিষদের সচিবদের এক টাকাও বেশি নেওয়ার সুযোগ নেই। বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের বরাবর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা না মানলে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা আগে জন্মনিবন্ধন করেছেন কিন্তু অনলাইনে নেই, তাদের কেউ আবেদন করলে এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বিষয় : মিরসরাই

মন্তব্য করুন