বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই যমুনা নদীর তীর ব্যাপকভাবে ভাঙতে শুরু করেছে। কয়েক দিন ধরে নদীতে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যমুনার তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন দেখা দেওয়ায় ফসলি জমি, ঘরবাড়িসহ পাটুরিয়া ফেরিঘাট হুমকির মুখে পড়েছে।

উপজেলার দক্ষিণ শিবালয়, ছোট আনুলিয়া, অন্বয়পুর তেওতা, নিহালপুর, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানের নদী-তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীভাঙনের কারণে ওইসব এলাকার ফসলি জমিসহ ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার দক্ষিণ শিবালয়, ছোট আনুলিয়া, অন্বয়পুর, পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকাসহ যমুনার তীরবর্তী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এই সর্বনাশা পদ্মা-যমুনার ভাঙনের কারণে আসল আরিচা বন্দর প্রতিবছর ভাঙনের কারণে প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে এসেছে এবং দিন দিন আরিচা ঘাটের মানচিত্র ছোট হয়ে আসছে। ঐতিহ্যবাহী এই আরিচা ঘাটের কথা জানা নেই- এমন মানুষের সংখ্যা দেশে খুব কমই আছে। কারণ, আরিচা ঘাটকে এক সময় বলা হতো বাংলাদেশের নাভি। এই ঘাটই ছিল দেশের উত্তর, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৩৬টি জেলার সঙ্গে নৌ যোগাযোগের একমাত্র রাস্তা ছিল। এ ঘাট এক ঘণ্টা বন্ধ থাকলে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের ৩৬ জেলার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেত। এ ঘাট থেকে স্টিমার, লঞ্চ, ফেরিসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করলেও যানবাহন ও যাত্রীদের চাপের কারণে ফেরি পারাপার হতে দুই-তিন দিন ঘাটেই কেটে গেছে অনেক যাত্রীর। এমনকি ঈদের সময় দেশের উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ঘরমুখো যাত্রীদের ঈদের নামাজও ঘাটেই পড়তে হয়েছে। তাদের ভাগ্যে হয়নি আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে ঈদের জামাত আদায় করা।

এ ঘাট দিয়ে অনেক এমপি-মন্ত্রীর পারাপার হওয়ার সময়ও যানজটে পড়ে দুই-চার ঘণ্টা ফেরির জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। এ ঘাটের চাপ কমানো ও উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগের দূরত্ব কমানোর জন্য ১৯৯৮ সালে ভুয়াপুর যমুনা সেতু চালু হওয়ার পর আরিচা ঘাটের গুরুত্ব অনেক কমে যায়। এরপর নদীতে নাব্য সংকট ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে নৌপথের দূরত্ব কমানোর জন্য আরিচা ঘাট থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার ভাটিতে ফেরিঘাটটি পাটুরিয়া নামক স্থানে ২০০২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি নেওয়া হয়। চালু করা হয় পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ফেরিঘাট।

শিবালয় মডেল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আলাল জানান, নদীতে ভাঙনের ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন জানান, শিবালয়ে নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

মন্তব্য করুন