খুন, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইর ঘটনা বেড়েছে কেরানীগঞ্জে। একের পর এক খুন, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইর ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে কেরানীগঞ্জের মানুষ। এসব ঘটনা সামাল দিতে পারছে না আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে সাধারণ মানুষ। এক মাসে পাঁচটি খুন, দুটি ছিনতাই, দুটি চুরি ও দুটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা এলাকায়। খুন, ছিনতাই, চুরি ও ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে একাধিক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য কেরানীগঞ্জ-নবাবগঞ্জ ও দোহার সড়কের দু'পাশে একাধিক বিনোদন কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

কোনাখোলা এলাকার বাসিন্দা রাজা মিয়া ও আল আমিন মাদবর অভিযোগ করে বলেন, কেরানীগঞ্জে খুন, ধর্ষণ, চুরি ও ছিনতাইর ঘটনা এমনভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে চলাফেরা করাই কষ্টকর। এর মূল কারণ হিসেবে কেরানীগঞ্জের বিনোদন কেন্দ্রগুলো চরমভাবে দায়ী। কেরানীগঞ্জের নির্জন এলাকাগুলোতে ছোট-বড় অর্ধশত বিনোদন কেন্দ্র রয়েছে। কেরানীগঞ্জের শাক্তা, বাস্তা, কাজীরগাঁও, তারানগর, রোহিতপুর, কোণ্ডা কাউটাউল ও হযরতপুর এলাকায় গড়ে তুলেছে বিনোদন কেন্দ্রগুলো।

সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে উঠতি বয়সী ছেলেমেয়েদের আড্ডা। বিনোদন কেন্দ্র থেকে যাওয়ার পথে ঘটে ছিনতাই ও ধর্ষণের ঘটনা। আবার অনেক বিনোদন কেন্দ্রের ভেতরে অশ্নীলতার অভিযোগ রয়েছে। এসব বিনোদনের কেন্দ্রের পাশে ওতপেতে থাকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা।

২৩ মে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া এলাকায় অনৈতিক সম্পর্কের বলি হয়েছেন মারুফ শেখ নামের এক যুবক। স্ত্রী রিনা আক্তার ঊর্মি ও তার প্রেমিক ইমরান মারুফ শেখকে হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পুলিশ ঊর্মি ও ইমরানকে আটক করার পর ঘটনার বিষয়ে শিকার করেছে। ৭ মে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আতাশুর এলাকার রতন মিয়ার নির্মাণাধীন একটি গোডাউনের সিকিউরিটি গার্ড সামসুল হককে গলা কেটে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত হৃদয় হোসেন, শামীম আহমেদ, সাগর আহমেদ, আমজাদ হোসেন, সাব্বির হোসেন ও দেলোয়ার হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

২৮ মে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় আলতাফ হোসেন নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মদপান করে রুবেল আহমেদ নামের এক কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য আলতাফ হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে। সন্ত্রাসী রুবেল ওই ঘটনার পর আবার হাসনাবাদ হাউজিং এলাকায় তার এক বন্ধু রাকিব হোসেনকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাত করে। দু'জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আলতাফ হোসেনের মৃত্যু হয়।

গত ২ জুন গভীর রাতে কোণ্ডা ইউনিয়নের কাউটাইল কান্দাপাড়া এলাকায় মো. হিমেল নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। পুলিশ ঘটনার পর আমিনুল ইসলাম সুমন, শরীফ আহমেদ জীবন ও মো. প্রবীণকে আটক করেছে।

মডেল থানার উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবীর বলেন, কলেজছাত্রী শম্পা আক্তারের মৃত্যু রহস্যজনক বলে মনে হচ্ছে। ৫ জুন ঢাকার কেরানীগঞ্জের জিনজিরা মনুবেপারী ঢাল এলাকায় এক পথশিশুকে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে ধর্ষণ করে সিদ্দিক ওরফে টাইগার সিদ্দিক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কেরানীগঞ্জ সার্কেল) শাহাবুদ্দিন কবির বলেন, খুন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিষয় : কেরানীগঞ্জ

মন্তব্য করুন