লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে তীব্র ভাঙন চলছে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে করে দুই উপজেলার ভাঙনকবলিত ১০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই।

সরেজমিন জানা যায়, চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে মেঘনা তীরবর্তী কমলনগরের নাছিরগঞ্জ, কাদির পণ্ডিতেরহাট, লুধুয়া ফলকন ও পাটারীরহাট এবং রামগতির পশ্চিম বালুরচর, জনতা বাজার, মুন্সীপাড়া, চরআলগী, বিবিরহাট ও বড়খেরী গ্রামে নদীভাঙন চলছে। যাদের বসতভিটা মেঘনায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে, তারা ব্যস্ত ঘর-দরজা ও গাছপালা অন্যত্র সরানোর কাজে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মেঘনার ভাঙনে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০-১২টি পরিবার বসতভিটা হারাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্য এলাকায় গিয়ে এক টুকরো জমি নিয়ে কোনো রকম মাথা গুঁজছেন। আবার কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে উঠছেন। অন্যদের ঠিকানা হচ্ছে সরকারি বেড়িবাঁধের ওপর। আয়-রোজগার হারিয়ে অনেকে মানবেতর দিন কাটছে।

রামগতির জনতা বাজার এলাকার বাসিন্দা আইনজীবী রিপন পাটোয়ারী জানান, মেঘনার ভাঙন থেকে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ জনতা বাজার এলাকা রক্ষায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। সম্প্রতি একনেকে ভাঙন রোধে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হওয়ায় তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠান এখনও কাজ শুরু করতে পারেনি। এ অবস্থায় তারা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।\হআইনজীবী রিপন পাটোয়ারী জানান, ইতোমধ্যে কয়েক দিনের ভাঙনে এলাকার চরবালুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুটি দ্বিতল ভবনসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে।

কমলনগরের চরকালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছাইফ উল্যাহ জানান, মেঘনার ভাঙনে প্রতিনিয়ত তার ইউনিয়ন ছোট হয়ে পড়ছে। গত তিন সপ্তাহের ভাঙনে ইউনিয়নের নাছিরগঞ্জ বাজারের দেড় শতাধিক দোকান নদীতে চলে গেছে। অন্য দোকানগুলোও বিলীনের পথে। এ ছাড়া একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও একটি মাদ্রাসা চরম হুমকিতে রয়েছে।

পাটারীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম নুরুল আমিন রাজু জানান, গত দুই মাসের ভাঙনে তার ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। ভাঙন রোধে একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে এ সমস্যা আর থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

কমলনগরের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ও রামগতি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াদ হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে ভাঙনকবলিত গ্রামের দুস্থ পরিবারগুলোকে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ বলেন, মেঘনার ভাঙন রোধে ৩ হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার একটি প্রকল্প সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির ুসভায় অনুমোদন হয়েছে। অর্থ ছাড় হলে ভাঙন প্রতিরোধে শিগগির কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিষয় : ভাঙনে ঈদের আনন্দ নেই

মন্তব্য করুন