সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে চিকিৎসক ও হোটেলের মালিক পরিচয় দিয়ে তরুণীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে আতাউর রহমান নামের এক যুবক। পরে কৌশলে মেয়েটির কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। একপর্যায়ে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টাও করা হয়। তবে মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয়রা তাকে আটক করে। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। গত রোববার রাতে মানিকগঞ্জ শহরে এ ঘটনা ঘটে। ওই যুবকের বাড়ি কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার জামালপাড়া গ্রামে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তরুণী ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ফেসবুকের মাধ্যমে গত বছরের নভেম্বরে মানিকগঞ্জের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ওই তরুণীর সঙ্গে আতাউরের বন্ধুত্ব হয়। এই সুযোগে মানিকগঞ্জে এসে আতাউর তরুণীর সঙ্গে দেখা করে এবং বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করে। একপর্যায়ে কৌশলে মেয়েটির কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন ও হাতের ব্রেসলেট নেয়।

গত রোববার সকালে মেয়েটির সঙ্গে আবার দেখা করতে মানিকগঞ্জ আসে আতাউর। জেলা শহরের একটি বাসায় তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টা করে। এ সময় তরুণীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন আতাউরকে আটক করে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করে। পরে রাতে তরুণী স্বর্ণালংকার লুট ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে আতাউরের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ভাস্কর সাহা বলেন, অভিযুক্ত যুবক তার ফেসবুক প্রোফাইলে নিজেকে চিকিৎসক ও একটি হোটেলের মালিক উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকার তরুণী ও কিশোরীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে। এরপর তাদের ফাঁদে ফেলে দৈহিক সম্পর্ক, অর্থ ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আতাউর এসব অপরাধের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

গতকাল দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাকিল আহমেদ দু'দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

বিষয় : তরুণীর সঙ্গে যুবকের প্রতারণা

মন্তব্য করুন