=জিল্লুর রহমান শহররক্ষা বাঁধ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করা হচ্ছে বাঁধ সংলগ্ন খালটি। শহরবাসীর দাবি, নদীপাড়ের ময়লা-আবর্জনা অন্য স্থানে সরিয়ে খালটি দূষণমুক্ত করা হোক।

প্রয়াত জিল্লুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে ভৈরব শহরকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় মেঘনা নদীর পাড় এলাকায় গড়ে তোলা হয় এই বাঁধ। ভৈরব বাজার দক্ষিণ ঋষিপট্টি এলাকার নদীপাড়ের সঙ্গে উত্তর দিকের মনামরা রেলওয়ে সেতুর খাল পর্যন্ত প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। ২০১২ সালের ১৬ জুন ভৈরব শহররক্ষা বাঁধের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ও জিল্লুর রহমানের ছেলে নাজমুল হাসান পাপন। বাঁধের পাশে নির্মাণ করা হয় ৭০০ মিটারের একটি সড়ক। সড়কটি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের নামে করা হয়।

এ সড়ক দিয়ে ভারী যানবাহনের পাশাপাশি পৌর এলাকাসহ উপজেলার প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ যাতায়াত করে থাকে। এ ছাড়া মালপত্র ভৈরব বাজারে আমদানি-রপ্তানি করতে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। বাঁধটি নির্মাণের পর থেকেই পৌর কর্তৃপক্ষ শহরের ময়লা-আবর্জনা খালে ফেলতে থাকে।

ভৈরবের সিনিয়র সাংবাদিক আসাদুজ্জামান ফারুক জানান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতির নামে করা একটি স্থাপনায় ময়লা ফেলে নষ্ট করে ফেলা অত্যন্ত দুঃখজনক। ময়লা পরিস্কার করে শিগগিরই খালটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য রক্ষার দাবি জানান তিনি।

ভৈরব চেম্বাব অব কমার্সের সভাপতি হুমায়ন কবির জানান, ব্যবসার কাজে প্রতিদিন ভৈরবসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজন এই বাঁধের পাশের সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধে বমি করার অবস্থা হয়। সাবেক পৌর মেয়র আক্কাছকে এ বিষয়ে চেম্বারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাদের দাবি, খালে ময়লা ফেলা বন্ধ করা হোক।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র ইফতেখার হোসেন বেনু বলেন, পৌরসভার অন্যতম সমস্যা হচ্ছে ময়লা ফেলার নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং ব্যবস্থা নেই। এর ফলে নদীপাড়ের এই খালটিতে ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। পৌর শহরের ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য একটি ডাম্পিং ব্যবস্থা করার জন্য বিশ্বব্যাংক অর্থ বরাদ্দ দিয়েছে। এর জন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন