করোনার কারণে গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে বেতন-ভাতা বন্ধ দেশের সব কিন্ডারগার্টেনসহ বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের। এতে উপার্জনহীন হয়ে পড়েন এসব শিক্ষক। সেইসঙ্গে সরকারি নির্দেশে কোচিং সেন্টারগুলোও বন্ধ। এমন অবস্থায় অনেক শিক্ষক পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছেন। কেউ কেউ নিজ যোগ্যতার চেয়ে নিচু কাজ করছেন। তবে স্কুল বন্ধ থাকলেও নিজেদের আয় স্বাভাবিক রাখতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার ভূঁইগড়ের কুতুবপুর এলাকায় অবিস্থত আলী আকবর একাডেমির শিক্ষকরা বেছে নেন ভিন্ন পন্থা। তারা বাসায় গিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছেন। পরে অভিভাবকদের অনুরোধে গতকাল শনিবার স্কুলের ভেতরে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৬০ শিক্ষার্থীর তিন বিষয়ে আধা ঘণ্টার পরীক্ষা নেন। তবে বাসায় প্রাইভেট পড়িয়ে স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ায় বিষয়টি স্থানীয়রা ভালোভাবে নেননি।

আলী আকবর একাডেমির সহকারী প্রধান শিক্ষিক ফরিদা আক্তার বলেন, গত বছর মার্চ মাসে করোনার কারণে স্কুল বন্ধ হয়ে গেলে এপ্রিল মাস থেকে বর্তমান পর্যন্ত তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে স্কুলের ১২ জন শিক্ষক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। গত বছর তাদের স্কুলের প্লে থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ২৮০ জন শিক্ষার্থী থাকলেও চলতি বছর মাত্র ১০০ জন শিক্ষার্থী পুনঃভর্তি হয়েছে। এ কারণে বাধ্য হয়ে স্কুলের শিক্ষকরা বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়াতে শুরু করেন। অভিভাবকদের অনুরোধে তারা সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করেন। পরীক্ষা নিতে স্কুল ব্যবহারের অনুমতি চাইলে প্রথমে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ওয়ালি উল্লাহ করোনার কারণে রাজি না হলেও পরে শিক্ষকদের অনুরোধে রাজি হন। এ কারণে তারা শনিবার আধা ঘণ্টার জন্য তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির মাত্র ৬০ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নিয়েছেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে। এতে কোনো অভিভাবকের অনাপত্তি ছিল না বলেও দাবি এই শিক্ষিকের।

ফরিদা আক্তার আরও বলেন, করোনার কারণে তাদের স্কুলের ছাত্রসংখ্যা কমে গেছে। সরকার করোনাকালে বেতনের বাইরে অন্য কোনো ফি নিতে নিষেধ করলেও বেতনও দিতে চাননি অভিভাবকরা। যে কারণে স্কুলের সব শিক্ষক শুধু স্কুলের ছাত্র ধরে রাখতে বাসায় গিয়ে প্রাইভেট পড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। প্রাইভেট পড়ানো শিক্ষার্থীদেরই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তারা এটা করেছেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চিন্তা করেই।

স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক ওয়ালি উল্লাহ বলেন, করোনার সময় সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থী ধরে রাখতে স্কুলের ১২ জন শিক্ষক বাসায় গিয়ে স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়িয়েছেন। অভিভাবকরাই প্রাইভেট শিক্ষকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন যেন তাদের সন্তানদের মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরে শিক্ষকরা সম্মিলিতভাবে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে স্কুল ব্যবহারের অনুমতি চান। এই পরীক্ষার সঙ্গে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি জানান।

মন্তব্য করুন