কুষ্টিয়া শহরের রাইফেল ক্লাবের সামনে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়কের ওপর দিনের বেলা প্রকাশ্যে এক ঠিকাদারকে হাতুড়িপেটা করেছে সন্ত্রাসীরা। হাতুড়িপেটায় গুরুতর আহত হয়েছেন শহিদুর রহমান মিন্টু নামের ওই ঠিকাদার।

গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়কে লোকজনের উপস্থিতি ছিল। অনেকেই হামলার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করেন মোবাইল ফোনে। ভয়ে হাসপাতালেও ভর্তি হতে পারেননি মিন্টু। পরে চিকিৎসকের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সেবা নিয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন তিনি। থানায় অভিযোগ দায়ের করতেও ভয় পাচ্ছেন এ ঠিকাদার।

ঠিকাদার মিন্টুর বাড়ি কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের শানপুকুরিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম আহম্মদ আলী বিশ্বাস।

মিন্টু জানান, তিনি প্রথম শ্রেণির ঠিকাদার। কয়েক মাস আগে মিরপুর উপজেলায় সড়কের সাত কোটি টাকার একটি টেন্ডার ছিল। তিনি টেন্ডারে অংশ নেন। টেন্ডারে অংশ নেওয়ার আগে থেকে তিনি যাতে এ কাজের সিলিউল না কেনেন এবং ড্রপিং না করেন সে জন্য কয়েকজন নেতা তাকে হুমকি দেন। এরপরও তিনি টেন্ডারে অংশ নেন। তবে লটারিতে তিনি কাজটি পাননি। টেন্ডারে অংশ নেওয়ার কারণে তাকে ফোনে প্রতিনিয়ত হুমকি দিয়ে আসছিল ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন নেতা। তারা আমাকে দেখে নেবে বলেও হুমকি দেয়।

তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে শহরে ব্যক্তিগত কাজে আসেন। শহরের রাইফেল ক্লাব এলাকায় একটি দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই ১০ থেকে ১৫ জন হাতুড়িসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে। তাদের বেশিরভাগের হাতে হাতুড়ি ছিল। তারা তাকে ধরে দু'পায়ের হাঁটুতে হাতুড়ি দিয়ে বেদম পেটাতে শুরু করে। তিনি দৌড় দেন। এরপরও তারা তাকে তাড়া করে শরীরের নানা স্থানে পেটাতে থাকে। আশপাশে লোকজন থাকলেও তারা ভয়ে কেউ এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। তার হাঁটু থেঁতলে গেছে। পিঠে ও বুকেও আঘাত লেগেছে।

স্থানীয় লোকজনের ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মিন্টুকে ঘিরে ধরে হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে কয়েকজন। তাদের একজনের বাড়ি মজমপুর সাদ্দামবাজার এলাকায়। তিনিসহ আরও ১০ থেকে ১৫ যুবক হামলায় অংশ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা মজমপুর এলাকার স্থানীয় এক নেতার ক্যাডার। বেশিরভাগের মুখে মাস্ক পরা ছিল। ভয়ে কেউ তাদের বাধা দেয়নি। এলাকার অনেক মানুষ হামলা প্রত্যক্ষ করেছে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এমন হামলার কথা তার কানে আসেনি। হামলা বা মারধরের বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন