উপজেলার পোল্যাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের ফরহাদ হোসেন মণ্ডল ও ঈশা আলম মণ্ডল নামে দুই শিক্ষিত বেকার যুবক লেবু চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন। লেবু চাষ করে পাল্টে গেছে তাদের জীবনের গতি। পেয়েছেন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। ফরহাদ হোসেন মণ্ডল পোল্যাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল বারি মণ্ডল ছেলে ও ঈশা আলম একই গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে।

দু'জনই এইচএসসি পাস করে দীর্ঘদিন বেকারত্বের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরেছেন। নিজেদের জীবন সম্পর্কে হতাশায় বিরূপ মনোভাব পোষণ করেও স্বপ্ন দেখেছেন সোনালি ভবিষ্যতের। ২০১৬ সালে হঠাৎ তাদের মাথায় আসে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা। চাকরির আশা আর বেকারত্বের বোঝা মাথা থেকে নামাতে গেলে নিজেরা কিছু করে স্বাবলম্বী হতে হবে। এই প্রত্যয়ে সিডলেস জাতের লেবু চাষ শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে দু'জনে অংশীদারী মনোভাব নিয়ে ৩ লাখ টাকা ব্যয় করে ৭ বিঘা জমিতে ১ হাজার লেবুর কলম করা চারাগাছ লাগান। বিভিন্ন সূত্র থেকে জেনে নেন সিডলেস জাতীয় লেবু চাষের পদ্ধতি ও প্রযুক্তি।

ফরহাদ হোসেন মণ্ডল ও ঈশা আলম মণ্ডল জানান, এ লেবুর চারা লাগানোর ৬ মাস পর থেকেই লেবু আসতে থাকে। প্রথম পর্যায়ে গাছ ছোট থাকায় লেবু কম ধরেছে। তবে লোকসান গুনতে হয়নি। লাভের পরিমাণ হয়েছে অল্প। এক বছর পর থেকে গাছ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লেবুও ধরতে থাকে বেশি। সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে মুনাফার পরিমাণ। এখন প্রতি বছর পানি সেচ, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ এবং খুঁটি লাগানো বাবদ ৭ বিঘা জমিতে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় করে লাভ করছেন ৪ লাখ টাকা। তাদের চাষকৃত সিডলেস জাতের লেবু স্বাদে ও গন্ধে অন্যান্য লেবুর তুলনায় উত্তম। লেবুর ভেতরের অংশে কোনো বীজ নেই। এ কারণে এই লেবুর নাম সিডলেস। শুধু কলম করে এর চারা উৎপাদন করতে হয়। কলম করা চারা প্রতিটি ৭০ টাকায় পাওয়া যায়। বাজারে এ জাতীয় লেবুর চাহিদা বেশি। এ লেবু চাষে পরিশ্রম ও ব্যয়ও তুলনামূলক কম। বছরে ৩ বার সার, ভিটামিন ও কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয় লেবুর গাছে। বড় গাছ থেকে সারাবছর লেবু আসে। এখন গাছে শতভাগ লেবু এসেছে। পরিপূর্ণভাবে লেবু নামতে শুরু করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ পরেশ চন্দ্র দাস জানান, সিডলেস জাতের লেবু চাষ অত্যন্ত সহজ ও লাভজনক। এ উপজেলায় কেউ যদি এ লেবু চাষে উদ্বুদ্ধ হোন, আমরা তাদের সহযোগিতা করব।

মন্তব্য করুন