যৌতুক দাবিতে ঘুমন্ত স্ত্রীর শরীরে গরম তেল ঢেলে ঝলসে দিয়েছে স্বামী। সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দগ্ধ স্ত্রী স্বর্ণা বেগমকে মুমূর্ষু অবস্থায় রেখে পালিয়েছে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। শুক্রবার গভীর রাতে সাভার থানার জিরানী (টিকনিবাজার) এলাকায় গৃহবধূ স্বর্ণা বেগমের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। গতকাল শনিবার সকালে তাকে সরিষাবাড়ী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে চলে যায় স্বামী সেজনু মিয়া। পরে স্থানীয় লোকজন ও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা দেন। চিকিৎসক গরম তেলে গৃহবধূর শরীরের পেট, কোমর থেকে হাঁটু পর্যন্ত ৯০ ভাগ ঝলসে গেছে।

সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের পিংনা বাজার এলাকার চাঁন মিয়ার ছেলে সেজনু মিয়া। প্রায় ১৫ বছর আগে পার্শ্ববর্তী সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে স্বর্ণা বেগমকে পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন।

নির্যাতনের শিকার স্বর্ণা বেগমের মা শিরিনা বেগম অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকেই তার জামাই সেজনু মিয়া মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে আসছিল। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে আদালতে মামলা করা হয়েছিল। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপস-মীমাংসা করে মেয়েকে ফের জামাইয়ের কাছে পাঠানো হয়। কিছু দিন পর ফের মেয়েকে নির্যাতন শুরু করে। নির্যাতন সইতে না পেরে বাধ্য হয়ে স্বামীর সংসার ছেড়ে স্বর্ণা বেগম সাভারের জিরানী এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেয়। মেয়ের ভাড়া বাসার ঠিকানা সংগ্রহ করে শুক্রবার বিকেলে সেজনু মিয়া সেখানেও যায়। তারপর ঘুমন্ত অবস্থায় সে স্বর্ণার শরীরে গরম তেল ঢেলে দেয়।

হাসপাতালে চিকিৎসারত স্বর্ণা বেগম জানান, অনেক দিন পর ঠিকানা সংগ্রহ করে আমার বাসায় আসে সেজনু। আমি তাকে থাকতে দিই। আমি ঘুমিয়ে গেলে সে তেল গরম করে আমার শরীরে ঢেলে দেয়। চিৎকার করতে দেয়নি। রাতেই স্বামী সেজনু আমাকে জিরানী থেকে শ্বশুরবাড়ি সরিষাবাড়ীতে নিয়ে আসে। শনিবার সকালে আমাকে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনে এবং হাসপাতালে ফেলে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে স্বর্ণা বেগমের পরিবারের লোকজন ছুটে আসে সরিষাবাড়ী হাসপাতালে। নির্যাতিতার অবস্থা অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার ফাহমিদা জামাল তিথি জানান, গরম তেলে ঝলসে যাওয়া নারী স্বর্ণা বেগমকে কিছু লোক হাসপাতালে নিয়ে আসে। এরপর আমরা প্রাথমিকভাবে তার চিকিৎসা দিই। গরম তেলের সেঁকায় তাঁর শরীরের ৬০ ভাগ ঝলসে গেছে। পেট থেকে হাঁটু পর্যন্ত ৯০ ভাগ ঝলসে গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন