প্রতীকীভাবে যেখানে শিক্ষার্থীদের কেউ স্পিকার, কেউবা মন্ত্রী, কেউবা সংসদ সদস্য। জাতীয় সংসদ ভবনের মতোই বসেছিল এক দিনের এই পার্লামেন্টের অধিবেশন। তবে এসবই প্রতীকী। এ অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল 'নয়া স্বাভাবিকতায় পুষ্টি নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় চাই যথাযথ আইনি কাঠামো।' গত শনিবার বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছাব্রতী যুব সংগঠন ইয়ুথ এগেইনস্ট হাঙ্গার বাংলাদেশ এই মিনি পার্লামেন্টের আয়োজন করে। কালীগঞ্জ উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের আদলে বলিদাপাড়ার হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের ট্রেনিং সেন্টারের হলরুমে আয়োজিত এ পার্লামেন্টে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন ইয়ুথ এগেইনস্ট ক্যাম্পেইন সম্পাদক শেখ সাদি। অধিবেশনে প্রস্তাব উত্থাপন করেন খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকা যুব ছায়া সংসদ সদস্য ও মোবারকগঞ্জ চিনিকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহাবুর রহমান মাহফুজ। অধিবেশনে সরকারদলীয় প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুজাহিদ হোসেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য দেন ফাউজুর রহমান সাবিত। এ ছাড়া প্রতীকীভাবে ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে রায়হান হোসেন, ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে ইতি ব্যানার্জি, ঝিনাইদহ-৩ আসনে তারিন খাতুন, ঝিনাইদহ-৪ আসনে আলী হোসেন, যশোর-১ আসনে সাবিক হোসেন, যশোর-২ আসন থেকে বিল্লাল হোসেন, যশোর-৩ থেকে মাধবী বিশ্বাস, যশোর-৪ আসন থেকে তুলি বিশ্বাস অংশ নেয়।

অধিবেশনে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এর পরও পুষ্টি নিরাপত্তার দিক থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে। দেশের এখনও প্রায় চার কোটি মানুষ প্রয়োজনীয় কিলোক্যালরি খাবার গ্রহণ করতে পারে না। এখনও প্রতি চারজনে একজন পেটে ক্ষুধা নিয়ে রাতে ঘুমাতে যায়, প্রতি ছয়জনে একজন অপুষ্টিতে ভোগে। দেশের এখনও প্রায় ৪৪ শতাংশ নারী রক্তস্বল্পতায় ভোগে। মানুষ এখন কেন ক্ষুধার্ত থাকে, কারণ মানুষের কাজ নেই, আয় নেই, চাহিদা মতো খাবার কেনার সামর্থ্য নেই। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে এবং ২০৩০ সালের এসডিজির যে লক্ষ্যমাত্রা, তা অর্জন করা কঠিন হয়ে যাবে।

বক্তারা আরও বলেন, যুবকদের এখনও আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে পারিনি। প্রতি বছর গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করে লাখ লাখ শিক্ষিত তরুণ কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার জন্য হাসফাঁস করছে। কিন্তু তারা কোনো কাজ পাচ্ছে না। দিন দিন উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার বাড়ছে, যারা স্বল্পশিক্ষিত তারাই চাকরিজীবী আর যারা উচ্চশিক্ষিত তারাই বেকার। এ ছাড়া কৃষিকে এখনও আমরা লাভজনক পেশায় পরিণত করতে পারিনি।

এ পার্লামেন্টে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাঙ্গার ফ্রি ওয়ার্ল্ডের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর শাহজাহান আলী বিকাশ ও অ্যাকাউন্টস অফিসার সুফিয়া খাতুন।

মন্তব্য করুন