ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়ন মোটা অঙ্কের টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নড়াইল-১ আসনের এমপি বিএম কবিরুল হক মুক্তি। তার দাবি, নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন খান নিলু ও কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ এ মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন। এমনকি দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নিলু নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সুপারিশপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে নিজের পছন্দমতো প্রার্থীর নাম বসিয়ে কেন্দ্রে পাঠান বলেও অভিযোগ এমপির।

গতকাল রোববার সকাল ১১টার দিকে কালিয়া সদরে এমপি কবিরুল হকের নিজ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ওই দুই নেতার মনোনয়ন বাণিজ্য, মনোনয়নের সুপারিশ জালিয়াতি ও দলকে বিভেদের হাত থেকে দলীয় নেতাকর্মীদের রক্ষার জন্য দলীয় প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কালিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ছাড়া প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, এসব কারণে প্রার্থী সংগ্রহে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সংক্রান্ত আহূত গত শনিবার বিকেলে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ক্ষুব্ধ হয়ে হৈ-হট্টগোল ও চেয়ার ভাঙচুর করে পণ্ড করে দিয়েছেন। এ ছাড়া গত শনিবার রাতে নড়াইলে অনুষ্ঠিত নিজাম উদ্দিন খান নিলুর সংবাদ সম্মেলনে তার (কবিরুল) বিরুদ্ধে করা অভিযোগকে মিথ্যাচার বলে দাবি করে তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এ সময় নিলুর বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কালিয়া পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার অশিত কুমার ঘোষ অভিযোগ করে বলেন, গত পৌরসভা নির্বাচনে কৃষ্ণপদ ঘোষ তাকে নির্বাচিত করে দেওয়ার নাম করে তিন লাখ টাকা নিয়ে শেষ মুহূর্তে ফেরত দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ তরিকুল আলম মুন্নু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা ইমদাদুল হক, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা একরামুল হক টুকু, বিএম এমদাদুল হক টুলু, সাবেক মেয়র মুশফিকুর রহমান লিটন, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নজরুল ইসলাম, সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুল গফ্‌ফার, কালিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক খান রবিউল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহিম শেখ।

এসব বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নড়াইল সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর সঙ্গে একাধিকবার তার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ ঘোষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, এমপি কবিরুল হক পূর্বপরিকল্পিতভাবে বর্ধিত সভা পণ্ড করেছেন। তিনি রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করতে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।

তৃতীয় ধাপের নির্বাচনে কালিয়ার ছয়টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬০ জন ও নড়াগাতি থানার ছয়টি ইউনিয়নে ৬২ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী নিজ নিজ থানা কমিটির কাছে আবেদন জমা দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন