দ্বিতীয় ধাপে কুষ্টিয়ার দুই উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগেই উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। জাসদের প্রার্থীদের পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থীদের সামলাতে হবে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের। এ ছাড়া দুটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া নিয়ে দলের অভ্যন্তরে দ্বন্দ্ব বিরাজ করছে। তবে যারা অভিযোগ দিয়েছেন, তারা এখন তা অস্বীকার করছেন।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ১১টি ও ভেড়ামারা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর নির্বাচনী আসন কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে প্রার্থী দিচ্ছে দলটি। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়ি ভেড়ামারা হওয়ার সুবাদে ওই দুই উপজেলা আওয়ামী লীগ কোমর বেঁধে মাঠে নামছে। মাহবুবউল-আলম হানিফের সাবেক নির্বাচনী এলাকা এটি। তাই দুই হেভিওয়েট নেতার এলাকার ভোট নিয়ে আগেই উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দল দুটির নেতারা নানা বাহাসেও জড়াচ্ছেন।

মিরপুর উপজেলার ফুলবাড়িয়া থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান আতাহার আলী। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম। আতাহারকে রাজাকারের পরিবারের সন্তান বলে প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে অভিযোগ দেন সালাম।

অভিযোগের বিষয়ে আতাহার আলী বলেন, তিনি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে দল করছেন। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের নানা পদে রাজনীতি করে আসছেন। বিএনপির সময় চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। বরং আব্দুস সালামই জাসদের রাজনীতি করেছেন। এতদিন কেউ অভিযোগ করল না আর এখন মনোনয়ন না পেয়ে তিনি মিথ্যা অভিযোগ দিচ্ছেন।

অভিযোগ দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তা অস্বীকার করে আব্দুস সালাম বলেন, তিনি কোথাও কোনো অভিযোগ দেননি, এলাকার অন্য কেউ দিতে পারে।

ফুলবাড়িয়ায় জাসদ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন মিজানুর রহমান। বারুইপাড়া থেকে জাসদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদার রহমান ও আওয়ামী লীগ থেকে শফিউর রহমান মন্টু, আমলা থেকে আওয়ামী লীগের একলেমুর রেজা সাবান ও জাসদের রাজিয়া পারভীন, সদরপুর থেকে জাসদের হাফিজুর রহমান ও আওয়ামী লীগের বর্তমান চেয়ারম্যান রবিউল হক রবি, পোড়াদহে স্বতন্ত্র প্রার্থী জনকে সমর্থন দিচ্ছে জাসদ আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন নারীনেত্রী নাসরিন আক্তার। নাসরিনের বিরুদ্ধেও রাজাকারের পরিবারের সন্তান বলে অভিযোগ দেওয়া হয়। তবে নাসরিন কয়েক যুগ ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছেন বলে দাবি করেন। কুশায় জাসদের বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর আলী ও আওয়ামী লীগের আব্দুল হান্নান, মালিহাদ থেকে জাসদের আব্দুল হামিদ ও আওয়ামী লীগের আকরাম হোসেন, আমবাড়িয়া থেকে জাসদের বর্তমান চেয়ারম্যান মশিউর রহমান মিলন ও আওয়ামী লীগের সাইদুল ইসলাম, বহুলবাড়িয়া থেকে জাসদের সাইদুর রহমান মন্টু ও আওয়ামী লীগের শহিদুর রহমান, ছাতিয়ান থেকে জাসদের আব্দুল জলিল ও আওয়ামী লীগ থেকে তাসের আলী এবং তালবাড়িয়া থেকে জাসদের আরিফুর রহমান আরিফ ও আওয়ামী লীগ থেকে সোহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে সদরপুর থেকে যুবলীগ নেতা আশরাফুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। পাশাপাশি মালিদাহ ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হামিদ নৌকার মনোনয়ন না পেয়ে দল ছেড়ে জাসদে যোগ দিয়ে মশালের মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি এর আগে জাসদ ছেড়ে আওয়ামী লীগে এসে নৌকার মনোনয়ন পান।

ভেড়ামারার চাঁদগ্রাম থেকে জাসদের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপন ও আওয়ামী লীগ থেকে বুলবুল কবির, বাহাদুরপুর থেকে জাসদের আশিকুর রহমান ছবি ও আওয়ামী লীগের সাইফুল ইসলাম পবন, বাহিরচর থেকে জাসদের আবু হাসান আবু ও আওয়ামী লীগের রওশন আরা বেগম, ধরমপুর থেকে জাসদের আইয়ুব আলী ও আওয়ামী লীগ থেকে সিহাব উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ধরমপুরে মনোনয়ন না পেয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। জুনিয়াদহ থেকে জাসদের শাজাহান আলী ও আওয়ামী লীগের শওকত আলী এবং মোকারিমপুর থেকে লড়বেন আওয়ামী লীগের আব্দুস সামাদ ও জাসদের বেনজির আহমেদ বেনু।

জেলা জাসদ সভাপতি গোলাম মহসিন বলেন, নির্বাচনে প্রতিটি ইউনিয়নে জাসদ প্রার্থী দিয়েছে। কোনো ভোট চুরি করতে দেওয়া হবে না। নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ দখলে রাখা হবে। ভোট চোরদের প্রতিহত করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী বলেন, দলের বাইরে গিয়ে কেউ নির্বাচন করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচন সামনে রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সন্ত্রাস ও অরাজকতা করার চেষ্টা করলে জাসদকে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন