নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নে সম্প্রতি ধনু নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে পাথরা গ্রামের শতাধিক ঘর, জমি ও গাছপালা। সর্বশ্বান্ত হয়েছে ওই গ্রামের হতদরিদ্র শতাধিক পরিবার। উপায় না পেয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়েই আশ্রয় নিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। বালুর বস্তা ফেলেও রোধ করা যাচ্ছে না ভাঙন।

জানা গেছে, নেত্রকোনার হাওর অঞ্চল মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরীর সবচেয়ে বড় ও খরস্রোতা নদী ধনু। ওই নদী দিয়ে সারা বছর পাথর, বালুসহ বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে শত শত বড় বাল্ক্কহেডসহ নৌযান চলাচল করে। ফলে তীব্র ঢেউ ও স্রোতের কবলে পড়ে ব্যাপক ভাঙনের শিকার হচ্ছে নদী-তীরবর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম।

এ ছাড়া নদীর বিভিন্ন স্থানে তলদেশ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করা হয়। এতে ভাঙন আরও তীব্র হয়। এর মাঝে খালিয়াজুরী উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের পাথরা গ্রামেই সবচেয়ে বেশি ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে গ্রামের বেশিরভাগ টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন। ফলে দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকট।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর ধরে ভাঙন চলছে। তবে চলতি বছর ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে কয়েকগুণ। এরই মধ্যে শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বাড়িঘরহারা অসহায় মানুষ গবাদি পশু, শিশু-কিশোরদের নিয়ে অনেকটাই মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়েও বেঁচে থাকার সংগ্রাম করছেন তারা। সহায়-সম্বল হারানো এসব পরিবারের সদস্যরা উপায় না পেয়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। প্রতিবছরের মতো এবারও ভাঙন প্রতিরোধে সাময়িকভাবে কোটি টাকা ব্যয়ে বালুভর্তি বস্তা ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এ অবস্থায় গ্রামটি রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে গ্রামবাসী।

লেপসিয়া গ্রামের স্থানীয় সমাজসেবক আবুল কাসেম আবাদী বলেন, ইউনিয়নের পাথরা গ্রামটি প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনরোধে আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

চাকুয়া ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার শোভা রানী বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ধনু নদীর ভাঙনে পাথরা গ্রামটি প্রায় বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে সবকিছু হারিয়ে পথে বসেছে গ্রামের অনেক মানুষ। ইউএনও ও এলাকার নেতারা গ্রামটি পরিদর্শন করেছেন। বাড়িঘর হারিয়ে গ্রামের মানুষ চলে গেছে। গ্রামটি রক্ষা করা না হলে এখানকার হাওরের একমাত্র ফসলি জমি রক্ষা করাও কঠিন হয়ে যাবে। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ না করা হলে সব শেষ হয়ে যাবে।

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহন লাল সৈকত বলেন, গ্রামটি রক্ষার জন্য নদীতে ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে।

ইউএনও এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম বলেন, সাময়িকভাবে বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নদীর গতিপথ ফেরানোর জন্য আমাদের এলাকার মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার স্যার সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও দিয়েছেন।

মন্তব্য করুন