মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার বরাইদ ইউনিয়নে মুন্নু আবাসন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের খবর কেউ রাখে না। ঘরগুলোর সংস্কারের অভাবে ৭০ পরিবারের মধ্যে ৫৫ পরিবারই চলে গেছে অন্যত্র। আবাসনের চারদিকে আগাছায় ভরে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থাও খুব নাজুক। প্রতিটি ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। দরজা-জানালা কিছু নেই। ঘরের চালের ওপর বড় বড় গাছ জন্মেছে। এখানে আশ্রয় নেওয়া পরিবারগুলো সবাই হতদরিদ্র। সরকারিভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলে আনা হয়েছিল, জানান প্রকল্পের বাসিন্দারা।

এদিকে, ওই আবাসন ঘিরে মাদকসেবীদের আনাগোনা বেড়েছে। সন্ধ্যা হলেই এলাকার উঠতি বয়সের ছেলেরা মাদক সেবনের রমরমা আসর বসায়। এসব মাদকসেবী মাদকের টাকা জোগাড় করতে আবাসন ঘরের দরজা-জানালা চুরি করে ভাঙাড়ি হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে অভিযোগ আশ্রিতদের।

মুন্নু আবাসনে শুরু থেকে বসবাস করেন সাহেদ আলী। তিনি জানান, ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলে ঘরে থাকা যায় না। চালের টিনে মরিচা ধরেছে। বিভিন্ন জায়গায় টিনের মধ্যে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঘরের বেড়ার নিচের অংশের টিন ভেঙে গেছে। আবাসন প্রকল্পের চারদিকে আগাছায় ভরে গেছে। ৭০ পরিবারের জন্য মাত্র তিনটি নলকূপ রয়েছে। তাও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। সপ্তাহে একদিন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও নেই কোনো স্বাস্থ্যসেবা। নিজেদের টাকা খরচ করে ঘরের চালের ভেতর দিয়ে পলিথিন টানিয়ে কোনোরকম বসবাস করছেন তারা।

ভুক্তভোগী জ্যোৎস্না বেগম জানান, প্রতিটি পরিবারের জন্য রয়েছে আলাদা শৌচাগার। সব শৌচাগারই নষ্ট হয়ে গেছে। আবাসনের বরাদ্ধকৃত লোক না থাকায় প্রতিটি ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

হাজেরা বেগম জানান, বছরে দুই ঈদে তাদের ১০ কেজি করে চাল দেন প্রশাসনের লোকজন। সারাবছর কীভাবে চলেন, সে খবর কেউ রাখে না। কোনো উপায় না পেয়ে পুরুষের পাশাপাশি তারাও কৃষি শ্রমিক হিসেবে প্রতিদিন কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে কার্ডের মাধ্যমে গরিবদের সাহায্য করা হয়। ১৫ পরিবারের মধ্যে তিনটি পরিবারকে ১৫ বছরে ভিজিএফ কার্ড দিয়েছে।

মুন্নু আবাসনে বসবাসকারী আ. রাজ্জাক বলেন, ১৫ বছর আগে ঘর করে গেছে আর কেউ এসে দেখেনি। সংস্কারের অভাবে সাতটি ব্যারাকের ৭০ পরিবারের ঘর বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় বেশিরভাগ লোক চলে গেছে। আমরা কয়েকটি পরিবারের জমিজমা না থাকায় পড়ে আছি এখানে।

ইউএনও শারমিন আরা বলেন, মুন্নু আবাসন প্রকল্প সরেজমিন দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘরগুলো বসবাসের অনুপযোগী হলে সংস্কার করে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন