মঠবাড়িয়ায় একটি এনজিওর কর্মকর্তারা চেক জালিয়াতি করে এক ব্যবসায়ীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে আসছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ হয়রানি থেকে রেহাই পেতে ও এনজিওর কাছে জমা স্বাক্ষরিত সাদা চেক ফেরত পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে খলিলুর এ সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, 'ডাক দিয়ে যাই' এনজিওর তিনি একজন নিয়মিত গ্রাহক। ২০১৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৬ বার বিভিন্ন অঙ্কের ঋণ নেন। এ সময় ঋণের অনুকূলে এনজিওর শর্তানুযায়ী তার স্বাক্ষরিত রূপালী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড, ইসলামীসহ বিভিন্ন ব্যাংকের ১২টি চেক ও জামানতকারীর ৬টি চেক জমা দেন। দীর্ঘদিনের লেনদেনের ওই সময় এনজিওর মঠবাড়িয়ার তৎকালীন ম্যানেজার নাজমুল হোসেনের ভাগ্নি সাদিয়ার সঙ্গে তার ছেলে নাসির উদ্দিনের আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে হয়। পরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণে নাসির চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তার স্ত্রী সাদিয়াকে তালাক দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি করার জন্য সাবেক ম্যানেজার নাজমুল 'ডাক দিয়ে যাই' এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার শাহ আলম, ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল জলিল, শাখা হিসাবরক্ষক আউয়ালের কাছ থেকে তার (খলিলুর) ঋণ গ্রহণের অনুকূলে জমা করা স্বাক্ষরিত একটি সাদা চেক নেন। এরপর ওই চেকে নাজমুলের বোন রেকসোনা এমদাদের নাম বসিয়ে ব্যাংক ডিজঅনার করিয়ে ১০ লাখ টাকার একটি মামলা করেন। এ ছাড়া বাকি চেকগুলো ডিজঅনার করিয়ে তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন। নাজমুল এক বছর আগে 'ডাক দিয়ে যাই'-এর চাকরি ছেড়ে রিক নামে এনজিওতে যোগ দেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নাজমুল হোসেন বলেন, মামলা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবহূত ওই চেকটি এনজিওর নয়। ভাগ্নির শ্বশুর ও ঋণগ্রহণকারী খলিলুর রহমান চেকটি তার (নাজমুল) বোন রেকসোনা এমদাদকে দিয়ে টাকা নিয়েছিলেন।

'ডাক দিয়ে যাই' এনজিওর এরিয়া ম্যানেজার শাহ আলম বলেন, এটি সাবেক ম্যানেজার নাজমুল হাসান ও তার ভাগ্নির স্বামীর পারিবারিক বিরোধ। এর সঙ্গে এনজিওর কোনো সম্পর্ক নেই।

ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার আব্দুল জলিল বলেন, আদালতে মামলা হয়েছে। আদালতই ফয়সালা দেবেন। এ ব্যাপারে তার কোনো মন্তব্য নেই।

মন্তব্য করুন