নাসিরনগর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার সরকারি নম্বর থেকে ফোন করে ইউপি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের কাছে টাকা চাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাহিদামতো টাকা দিলে মনোনয়নপত্রের ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হবে বলে ফোনে দাবি করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা।

ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন অফিসের কিছু অসাধু ব্যক্তি এর সঙ্গে জড়িত। টাকা দিলে মনোনয়ন বৈধ হয়েছে, আর টাকা না দিলে মনোনয়ন অবৈধ করে দিয়েছেন তারা।

দ্বিতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের ১৩ ইউনিয়নের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শেষ সময় ছিল বৃহস্পতিবার।

অভিযোগের বিষয়ে গত বুধবার রাত ৮টার দিকে কথা হয় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলামের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, 'আমি নতুন এসেছি অফিসে। আমায় একটু সহযোগিতা কইরেন।' কী রকম সহযোগিতা পেতে চান- জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'চলেন চা খেতে খেতে কথা বলি।'

সদর ইউনিয়নের মিহির দেব নামে সাধারণ ইউপি সদস্য প্রার্থী অভিযোগ করেন, তাকে নির্বাচন কর্মকর্তার সরকারি নম্বর থেকে ফোন করে রাতে দেখা করতে বলা হয়। তিনি বুধবার রাত ৭টার দিকে গেলে অফিসের একজন কর্মচারী বলেন, 'আপনার মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়ে গেছে। কিছু খরচপাতি দেন, তাহলে সব ঠিক করে দেব।' পরে তিনি বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান।

মিহির দেব বলেন, তিনি গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে জানতে নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করেন। তখন জানতে পারেন, তার মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'রাতে যদি টাকা দিয়ে দিতাম, তাহলে আমার মনোনয়নপত্র অবৈধ হতো না। আমি এর বিচার চাই।'

সদর ইউনিয়নের অন্য সাধারণ ইউপি সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, জাতীয়

পরিচয়পত্রে তার নামের শুরুতে 'মো.' আছে। কিন্তু মনোনয়নপত্রে দেওয়া স্বাক্ষরে কেন 'মো.' লেখা হয়নি, সে জন্য তার মনোনয়ন বাতিল হবে হলে হুমকি দেওয়া হয়। মনোনয়নপত্র বৈধ করতে কত টাকা চাওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি এখন বলতে পারব না। মনোনয়নটা আগে বৈধ ঘোষণা করুক, তার পর সব বলব।'

বুড়িশ্বর ইউনিয়নের সাধারণ সদস্য প্রার্থী মো. দুলাল মিয়ার অভিযোগ, তার মনোনয়নপত্রে ভুল আছে বলে নির্বাচন অফিস থেকে বুধবার রাতে ফোনে জানানো হয়। তারপর ফোনে তার কাছে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করা হয়। এ নিয়ে গতকাল সকালে নির্বাচন অফিসে গিয়ে অফিস সহকারী আবু সুফিয়ানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

কুণ্ডা ইউনিয়নের প্রার্থী মো. মইনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত বুধবার রাতে নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম তাকে ফোন করে তার কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। তিনি অফিসে গিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলে তিনি (নির্বাচন কর্মকর্তা) মনোনয়নপত্রের পেছনে ২০ হাজার টাকা লিখে দেন এবং বলেন, ২০ হাজার টাকা দিলে আজ রাতের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। আর টাকা না দিলে মনোনয়ন অবৈধ হবে। তখন তিনি টাকা দিয়ে মনোনয়ন বৈধ করবেন না বলে চলে আসেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম দাবি বলেন, কোনো প্রার্থীকে ফোন করে কিংবা অফিসে এনে মনোনয়নপত্রে ভুল সংশোধন করার সুযোগ নেই।

১৩ ইউনিয়নে ৬৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থীর মধ্যে দু'জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আর সাধারণ ইউপি সদস্য ৫০৯ জনের মধ্যে বাতিল হয়েছে তিনজনের। তবে সংরক্ষিত কোনো ইউপি সদস্যের মনোনয়ন বাতিল হয়নি।

মন্তব্য করুন