ধামরাই উপজেলার নরসিংহপুর গ্রামের মরিময় বেগমের বয়স একশর কাছাকাছি। এ বৃদ্ধার রয়েছে ছয় ছেলে ও দুই মেয়ে। যার যার অবস্থান থেকে ছেলে ও মেয়েরা প্রতিষ্ঠিত। তার পরও তাদের বৃদ্ধ মা মরিয়ম বেগমের স্থান হয়নি কোনো সন্তানের কাছে। হাহাকার করতে হয় একমুঠো ভাতের জন্য। রাস্তার পাশে আহত অবস্থায় পড়ে থাকা বৃদ্ধ মরিয়ম বেগমের গত তিন দিন ধরে আশ্রয় হয়েছে প্রতিবেশী আব্দুল লতিফের বাড়িতে।

জানা গেছে, বৃদ্ধ মরিয়ম বেগমের আট সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে আক্তার হোসেন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা। অন্য ছেলেদের মধ্যে আবদুল্লাহ বাকী ব্যবসায়ী, সাখাওয়াত হোসেন সাকি গার্মেন্ট ব্যবসায়ী, ছোট ছেলে ডা. হুমায়ূন কবির শিশু বিশেষজ্ঞ (বিসিএস), জাহাঙ্গীর হোসেন ব্যবসায়ী এবং আলমগীর হোসেন প্রবাসী। প্রবাসী আলমগীর হোসেন ছাড়া অন্য পাঁচ ছেলে তাদের পরিবার নিয়ে থাকেন ঢাকায়। দুই মেয়ে বিয়ে হয়ে গেছে। তাদের অবস্থাও ভালো। কারও সংসারে অভাব-অনটন নেই। শুধু বৃদ্ধ মাকে ভরণপোষণ করতে যেন তাদের অভাবের শেষ নেই। প্রত্যেকের ঘরেই আছে শান্তির সুবাতাস। কিন্তু মায়ের অন্তর জ্বালা-যন্ত্রণা আর অশান্তিতে ভরপুর। খেয়ে না খেয়ে বিনা চিকিৎসায় দিনাতিপাত করছেন এই শতবর্ষী মরিয়ম বেগম।

গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ি থেকে বের হন মরিয়ম। মরিয়ম বয়সের ভারে ন্যুব্জ হলেও মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বঙ্গবাজারের পাশে রাস্তায় পড়ে গিয়ে হাতে আঘাত পান। পরে ছেলেমেয়েরা খবর না রাখায় গ্রামবাসী তাকে রাস্তার পাশ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় আব্দুল লতিফের বাড়িতে নিয়ে যান। আব্দুল লতিফ গত তিন দিন ধরে ওই বৃদ্ধার সেবা-শুশ্রূষা ও চিকিৎসা করান। এ ঘটনাটি ঘটেছে ধামরাইয়ের কুশুরা ইউনিয়নের নরসিংহপুর (রশ্মিমপুর) গ্রামে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রফিক জানান, মরিয়মের বাবা আছুর উদ্দিন সরকার ছিলেন এলাকার ধনী ব্যক্তি। শত শত বিঘা জমি ছিল তার। একমাত্র মেয়ের নামে (মরিয়ম) ১৫ বিঘা জমি লিখে দিয়েছিলেন তার বাবা। মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ঘরজামাই এনেছিলেন আব্দুস সালামকে। মরিয়ম-সালামের দাম্পত্য জীবনে ছয় ছেলে দুই মেয়ের জন্ম। জমি বিক্রি করে প্রত্যেক ছেলেমেয়েকে সুশিক্ষায় মানুষও করেছেন। এখন তারা প্রত্যেকেই প্রতিষ্ঠিত।

স্থানীয় আব্দুল লতিফ বলেন, মঙ্গলবার সকালে রাস্তার পাশে পড়েছিলেন বৃদ্ধ মরিয়ম। স্থানীয় গ্রামের লোকজন তাকে উদ্ধার করে আমার বাড়িতে নিয়ে আসেন। আমি তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। এ বৃদ্ধাকে তার সন্তানরা ভালোভাবে ভরণপোষণ না করার কারণেই তার এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে বৃদ্ধার ছেলে ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালের ডা. হুমায়ূন কবিরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলে তার সহকারী রিসিভ করে বলেন,স্যার এখন কথা বলতে পারবেন না। তিনি রোগী দেখছেন। পরে কথা বলবেন।

ইউএনও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, মা-বাবাকে ভরণপোষণ না করলে ছেলে সন্তানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন