বকশীগঞ্জে সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বাধ্য হয়ে দাদন ব্যবসায়ীর শর্ত মেনে নিলেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন দিনমজুর বৃদ্ধ। উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের নতুন টুপকারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানান, গ্রামের সাধু শেখের ছেলে সফিকুল ইসলাম চিহ্নিত দাদন ব্যবসায়ী। চার বছর আগে তার কাছ থেকে চড়া সুদে ১০ হাজার টাকা নেন একই এলাকার মৃত বাচ্চু শেখের ছেলে বৃদ্ধ নান্ডা শেখ।

তারা আরও জানান, ১০ হাজার টাকা সুদে নিলেও গত চার বছরে প্রায় ৪০ হাজার টাকা সুদ দেন নান্ডা শেখ। আসল ১০ হাজার টাকা থেকেও ৫ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি। এরপরও ৫ হাজার টাকার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিতে থাকে দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম। করোনার কারণে ৫ হাজার টাকা ফেরত দিতে পারছিলেন না তিনি। এক মাস আগে দাদন ব্যবসায়ী তাকে একটি শর্ত দেন। শর্ত মানলে ৫ হাজার টাকা আর ফেরত দিতে হবে না। শর্তটি হলো- প্রকাশ্যে সবার সামনে বিবস্ত্র হতে হবে। টাকা ফেরত দিতে না পারায় শর্তানুযায়ী কাজ করেন বৃদ্ধ। এরপর দাদন ব্যবসায়ীও এক মাস আর টাকা চাননি। গত শুক্রবার তিনি আবারও নান্ডা শেখকে টাকা ফেরতের জন্য চাপ দেন। টাকা দিতে না পারায় প্রকাশে বৃদ্ধকে মারধর করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য জিয়াউর রহমান জানান, এ ঘটনায় রাতেই গ্রাম্য সালিশ বৈঠক হয়েছে। এ সময় দাদন ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বৃদ্ধ নান্ডা শেখের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।

বকশীগঞ্জ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সম্রাট বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে কেউ এখন পর্যন্ত অভিযোগ নিয়ে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন