কুমিল্লার তিতাসের ৯টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় ৯ জন প্রার্থী মাঠে। তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে আওয়ামী লীগের ১৭ জন নেতাকর্মী চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও মূলত আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থীর ভূমিকায়। এসব প্রার্থীর কারণে অনেক ইউনিয়নে বেকায়দায় রয়েছেন দলীয় প্রার্থীরা। আগামী ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়াও জাতীয় পার্টির সাতজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পাঁচ ও ১৫ জন স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

সাতানী ইউপিতে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন সাতানী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক সরকার, বিদ্রোহী হিসেবে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মিজানুর রহমান।

জগতপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী কাইয়ুম এবং সহসভাপতি গোলাম মাওলা।

বলরামপুর ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান মো. নূরনবীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা (উত্তর) জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাংস্কৃতিক ও সাহিত্যবিষয়ক সম্পাদক আতিকুর রহমান সরকার।

কলাকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহারের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা যুবলীগের সদস্য মো. ইব্রাহিম সরকার। ভিটিকান্দি ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য মো. বাবুল আহমেদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. এখলাস উদ্দিন ও কুমিল্লা (উত্তর) জেলা কৃষক লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক ফারুক সরকার।

নারান্দিয়া ইউনিয়নে দলীয় প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুজ্জামান ভূঁইয়ার সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ইঞ্জি. সালাহউদ্দিন, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক আহ্বায়ক হারুনুর রশিদ এবং ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি ইসমাইল সরকার।

জিয়ারকান্দি ইউপিতে দলীয় প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আলী আশরাফের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমল সরকার, সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল হোসেন। এ ছাড়াও আওয়ামী লীগের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত নারান্দিয়া ইউপিতে মাছুম মোল্লা ও ভিটিকান্দি ইউপিতে জহিরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার যাচাই-বাছাই শেষে এসব প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন মজিদপুর ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া সরকার, ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বাবুল বেপারী, বলরামপুর ইউনিয়নে সংরক্ষিত-১ সদস্য শিখা আক্তার, মজিদপুর ইউনিয়নে সংরক্ষিত-৩ মেহেরুন নেছা। ৯টি ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য ৩৩৫ জন ও সংরক্ষিত ৮৬ জন প্রার্থী মাঠে।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোছা. মোমিনুর জাহান জানান, বাদ পড়া প্রার্থীরা আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আপিল নিষ্পত্তির সময় পাবেন। ২৬ অক্টোবর প্রত্যাহার ও ২৭ অক্টোবর প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন