জন্মের পর থেকেই শিশুটির শরীরের তুলনায় মাথাটি বেশ বড়। তাই সে হাঁটাচলা করতে পারে না। হাঁটতে গেলেই ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায়। তার চিকিৎসা করাতে গিয়ে দরিদ্র বাবা-মা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অর্থের অভাবে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না। ফলে নিরুপায় বাবা-মা কষ্ট নিয়ে দিন পার করছেন।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের তেলিহার গ্রামের হতদরিদ্র আনিছুর রহমান ও রওশন আরার একমাত্র পুত্রসন্তান রাব্বী হাসান। দিনমজুর আনিছুরের কোনো জমিজমা নেই। অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালান। আর স্ত্রী রওশন আরা অসুস্থ সন্তানকে নিয়েই দিন কাটান। এভাবেই চলছে তাদের জীবন।

আনিছুর রহমান বলেন, ধারদেনা আর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েও ছেলের রোগ ভালো হয়নি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির চিকিৎসার জন্য আরও তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব।

তাই সন্তানের চিকিৎসার জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যানের কাছে গিয়েও কাজ হয়নি।

এদিকে, তাদের সন্তানের বয়স ৪ বছরে দাঁড়িয়েছে। মাথার ভারে হাঁটতে বা বসে থাকতে পারে না তাদের সন্তান। কখনও শুয়ে আবার কখনও মায়ের কোলেই সময় কাটে অসুস্থ এ শিশুর।

আনিছুর বলেন, জন্মের পর থেকে ধারদেনা করে ছেলেকে বগুড়ায় এক চিকিৎসকের কাছে দেখিয়েছেন। অনেকবার তার কাছে নিয়েছেন। এখন তিনি বলছেন ছেলের মাথায় অতিরিক্ত পানি জমে আছে। অপারেশন করলে নাকি ভালো হবে এবং মাথার আকৃতি স্বাভাবিক হবে। কিন্তু অপারেশন করতে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাগবে। সংসারের যে অবস্থা তাতে নুন আনতে পান্তা ফুরায়। ছেলের অপারেশনের জন্য এত টাকা কীভাবে জোগাবেন। তাই নিরুপায় হয়ে ওই সন্তানের চিকিৎসার আশা ছেড়েই দিয়েছেন। অর্থের অভাবে বাবা হয়েও নিজের একমাত্র সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারছেন না- এই দুঃখ তিনি সইতে পারেন না। সমাজের হৃদয়বান ও বিত্তশালীদের কাছে ছেলের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার জন্য আকুতি জানিয়েছেন আনিছুর। তার বিকাশ নম্বর- ০১৯৯৭৮০০২৭৬।

স্থানীয় কুসুম্বা ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে ওই পরিবার তাদের ছেলের জন্য প্রতিবন্ধী কার্ড করতে পরিষদে এসেছিল। কিন্তু বয়স ৫ বছর না হওয়ায় তার কার্ড করা সম্ভব হয়নি। ওই অসুস্থ শিশুর বিষয়ে তারা সবাই জানেন। অনেক সহযোগিতাও করা হয়েছে। বয়স হলেই তার কার্ড করে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

পাঁচবিবি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শাহিনুর আফরোজ বলেন, প্রতিবন্ধী কার্ড করতে আগে বয়সসীমা ৫ বছর ছিল। তবে শর্তসাপেক্ষে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে এক বছর বয়সেও প্রতিবন্ধী কার্ড দেওয়া যাবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওই শিশুর প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন