গাজীপুরের কালীগঞ্জের তুমলিয়া ক্রেডিট ইউনিয়নের সামনে থেকে বতুল বাজার পর্যন্ত সড়কের সংস্কারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। অথচ পল্লী বিদ্যুতের বেশকিছু খুঁটি সড়কের মাঝে রেখে দেওয়া হয়েছে। এতে এই সড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পল্লি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় আট কোটি টাকা ব্যয়ে বন্যা রক্ষা বাঁধের ওপর নির্মিত এ সড়কটির সংস্কার ও বর্ধিতকরণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। সড়কের প্রস্থ বাড়িয়ে ১৮ ফুট করা হয়। ২০২০ সালের ২০ জুলাই স্থানীয় সাংসদ মেহের আফরোজ চুমকি সড়ক সংস্কার ও বর্ধিতকরণ কাজ উদ্বোধন করেন। প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রবাল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড।

সরেজমিনে দেখা যায়, তুমলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের পাশেই রয়েছে বোয়ালী উচ্চবিদ্যালয়। ওই স্কুলের পাশে বোয়ালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। এর কিছুদূর গেলে একই এলাকায় বোয়ালী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়। ওই সড়কে রয়েছে সেন্ট মেরিস স্কুল অ্যান্ড কলেজ। আর ওই সড়কে প্রায় ১০-১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে, যেগুলো সড়কের ওপরে দাঁড়িয়ে। স্থানীয়দের আপত্তির পরও সংস্কারের সময় খুঁটিগুলো সড়ক থেকে সরানো হয়নি।

বোয়ালী গ্রামের বাসিন্দা আশীষ পিটার গমেজ জানান, এ সড়কের পাশে বেশকিছু কারখানা গড়ে উঠেছে। যে কারণে সেখানে ভারী যানবাহন চলাচল করে। আর এসব যানবাহনের কারণেই সড়কটি তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে অচল ছিল দীর্ঘদিন। বহু প্রতীক্ষার পর রাস্তা সংস্কার হলেও বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরানো হয়নি। এতে যে কোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। আর এ থেকে রক্ষা পেতে অবশ্যই সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানো উচিত।

এ ব্যাপারে তুমলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মাহফুজুর রহমান জানান, তিনি বেশ কয়েকবার পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএমের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটা যদি কোনো ব্যক্তির জমির ওপর দিয়ে যেত তাহলে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া যেত। যেহেতু এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাজ, তাই এলজিইডিকে পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরাবর একটি আবেদন করতে হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সরিয়ে দেবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

তুমলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর মিয়া জানান, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। ওই সড়কের পাশের এক ইউপি সদস্য এরই মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে, তারা দ্রুত তা সরিয়ে নেবে।

উপজেলা প্রকৌশলী বেলাল হোসেন সরকার জানান, তারা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরাবর আবেদন পাঠাবেন। তারপর বাকি কাজ তাদের।

পল্লী বিদ্যুৎ কালীগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম জানান, যেহেতু এটি ভিন্ন দাপ্তরের কাজ, তাই মৌখিকভাবে কাজ করার সুযোগ নেই। সড়কটি এলজিইডির দায়িত্বে থাকায় তারা হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। প্রতিষ্ঠানটি জিএম বরাবর আবেদন করলে সে ক্ষেত্রে তারা দ্রুত খুঁটিগুলো সরানোর কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।

মন্তব্য করুন