ফটিকছড়ি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতীক পেয়েই প্রার্থীরা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে মঙ্গলবার

বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ২৫ জন সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।

১৪ ইউপির মধ্যে ১৩ নম্বর লেলাং, ১৬ নম্বর বক্তপুর ও ২০ নম্বর আবদুল্লাহপুরে একজন করে প্রার্থী থাকায় তারা  বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। এ ছাড়া ৫ জন সাধারণ ওয়ার্ড সদস্য ও ৪ জন সংরক্ষিত ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ফটিকছড়ির ৯টি ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়নবঞ্চিতরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। অনেকটা হঠাৎ করেই নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী দেখা দেওয়ায় ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

হারুয়ালছড়ি, পাইন্দং ও কাঞ্চননগর ইউনিয়নে তিন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ এবার অধিকাংশ ইউনিয়নে স্বতন্ত্র ও বিদ্রোহীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাগানবাজার ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী হিসেবে আনারস প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহসভাপতি শাহাদৎ হোসেন সাজু। এ ইউনিয়নে বিদ্রোহী সাজুর মনোনয়ন দাখিলে ভোটের মাঠে ভিন্ন সমীকরণ সৃষ্টি হয়েছে।

দাঁতমারা ইউনিয়নেও একই চিত্র। এখানে দলের মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুল আলম। নারায়ণহাট ইউনিয়নে নৌকার বিদ্রোহী হিসেবে যুবলীগ নেতা খোরশেদুল আলম মামুন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও আলোচনায় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাসদ নেতা সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর মাহমুদ।

রোসাংগিরী ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সোয়েব আল সালেহীনের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী কৃষক লীগ নেতা তারেক নেওয়াজ পলাশ মনোনয়নপত্র জমা দিলেও স্থানীয়দের কাছে তিনি এখনও পিছিয়ে। বক্তপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী সোলায়মান বিকমের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী শেষ পর্যন্ত থেকে যেতে পারেন। ধর্মপুরে নৌকার মাহমুদুল হকের সঙ্গে বিদ্রোহী মোরশেদুল আলম ও বখতিয়ারের প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র। জাফতনগরে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হালিমের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে যাবেন বিদ্রোহী জিয়াউদ্দিন জিয়া। সমিতিরহাটেও একই চিত্র বিরাজ করতে পারে। নৌকার হারুনুর রশীদ ইমনের বিপরীতে ব্যবসায়ী নাছির উদ্দিন কোমর বেঁধেছেন।

উপজেলাজুড়ে আলোচিত হচ্ছে সুন্দরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দাখিল করা সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা শহিদুল আজমের নাম। বিএনপি এবারের ইউপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও আনারস প্রতীকে আজম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তার প্রার্থী হওয়ার খবরে নড়েচড়ে বসেছে সুন্দরপুরের বিএনপি।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ফটিকছড়ির ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জন, সংরক্ষিত নারী আসনে ১০৫ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৪২১ জন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে করার জন্য সব রকমের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন