করোনাকালে অভাবে পড়ে নবজাতক সন্তান বিক্রির ঘোষণা দেওয়া আলম মৃধাকে একটি অটোরিকশা দিয়েছে দশমিনা উপজেলা প্রশাসন।

গতকাল রোববার উপজেলা পরিষদের সামনে আলম মৃধার হাতে নতুন অটোরিকশাটি তুলে দেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন, ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ডা. শামচুন্নার খান ডলি, দশমিনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ফজলুল আলম প্রমুখ।

গত ৭ নভেম্বর দশমিনার চরহোসনাবাদ এলাকার দিনমজুর আলম মৃধার স্ত্রী হাওয়া বিবি তৃতীয় সন্তান (পুত্র) জন্ম দেন। সন্তানটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরই বান্দরবন জেলার এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে বিক্রির উদ্যোগ নেন তারা। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল কাইয়ুমের নজরে আসে। তিনি আলম মৃধার বাড়িতে গিয়ে সন্তান বিক্রি বন্ধ করেন এবং ওই পরিবারকে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেছেন, ঘটনাটি জানার পর আলম মৃধাকে মুদি দোকান করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু পরে তার ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে অটোরিকশা দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও মো. আবদুল কাইয়ুম বলেন, সন্তান বিক্রি না করার শর্তে আলম মৃধাকে অটোরিকশা দেওয়া হয়েছে।

আলম মৃধা বলেন, অভাবের তাড়নায় সন্তান বিক্রি করার মতো ভয়াবহ পাপ কাজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমি লজ্জিত।

মন্তব্য করুন