গাজীপুরের কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে আছে। সড়কটির বহু জায়গায় বড় বড় গর্ত। ভাঙাচোরা এ সড়ক দিয়ে যানবাহন চলতে গিয়ে উল্টে পড়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জানমালের। মানুষের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই এ সড়কে।

দেখা গেছে, সড়কের কোনাবাড়ী থানার সামনে, যমুনা কারখানার পাশে, জরুন বাজার, ডেলটা গার্মেন্ট এলাকাসহ বেশ কিছু জায়গায় এক থেকে দেড় ফুট গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই জমে হাঁটুপানি।

এ সড়কে নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কোনাবাড়ী এলাকাটি বিসিক শিল্পনগরী এলাকা হিসেবে পরিচিত। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক দিয়েই কোনাবাড়ী থেকে ঢাকার যে কোনো প্রান্তে যাওয়া-আসা করা যায়। কোনাবাড়ী এবং কাশিমপুর এলাকায় গড়ে উঠেছে শত শত তৈরি পোশাক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার হাজার হাজার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে চলে হাজার হাজার যানবাহন। কিন্তু সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্ট ভাঙাচোরা এবং খানাখন্দে ভরা। বৃষ্টি হলে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে থাকে। ফলে যে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ঝুঁকি নিয়ে চালকরা এসব খানাখন্দের ওপর দিয়েই নিয়ে যাচ্ছেন যানবাহন। মাঝেমধ্যেই উল্টে যাচ্ছে রিকশা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন যানবাহন। কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কটি দিয়ে চলে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, কভার্ডভ্যান, বাস-ট্রাক, মোটরসাইকেল এবং অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন।

সড়কটি মেরামত করার কথা ভাবছেন না কেউ। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি আর দুর্ভোগ কবে শেষ হবে এমন প্রশ্ন এলাকাবাসীর। এসব খানাখন্দ এবং পানি জমে থাকা অংশ স্থায়ীভাবে মেরামত করলে মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমে যেত।

স্থানীয় বাসিন্দা নুর আলম জানান, কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়কের পাশেই তাদের ফার্নিচারের দোকান। দোকানের মালামাল বিক্রি করলে এ সড়ক দিয়েই নিতে হয় এবং কারখানা থেকে মালামাল এ সড়ক দিয়ে দোকানে আনতে হয়।

এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, জরুরি কোনো কাজে দ্রুত যেতে চাইলে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক দিয়ে যাওয়া যায় না। রাস্তাটির এমন অবস্থা যে, এখান দিয়ে চলাচল করা বেশ কষ্টকর ব্যাপার। নষ্ট রাস্তার কারণে যানজট লেগেই থাকে। একদিকে যানজট লেগে থাকে, অন্যদিকে ভাঙাচোরা। বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকা সড়কটি দিয়ে লড়াই করে চলতে হয় প্রতিদিন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. সেলিম রহমান বলেন, লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত, হাজার হাজার গাড়ি চলছে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর সড়ক দিয়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন কারখানার মালামাল আনা-নেওয়া হয় সড়কটি দিয়ে। জমি অধিগ্রহণ করে আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যেই সড়কটির কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য করুন