ব্রহ্মপুত্র ও যমুনার নাব্য সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বালাসী-বাহাদুরাবাদ, তিস্তামুখ-বাহাদুরাবাদঘাট রুটে গত এক সপ্তাহ ধরে নাব্য সংকটে বিভিন্ন নৌ-রুটে জমেছে বড় ধরনের বালুর স্তর। জেগে উঠেছে ছোট-বড় দুই শতাধিক চর ও ডুবোচর। বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে যাচ্ছে যাত্রী ও পণ্যবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌযান। হেঁটে নদনদী পারাপার করতে হচ্ছে চরাঞ্চলের মানুষের। জানা গেছে, প্রতিবছর খনন কাজ পরিচালনা না করায় নদনদীতে এই সংকট দেখা দিয়েছে।

সূত্র জানায়, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার প্রায় ২৫টি নৌঘাট এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব চ্যানেল জিগাবাড়ি থেকে মইন্যা এবং পশ্চিম চ্যানেলে কামারজানি নৌবন্দর থেকে জামিরা পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৫০ কিলোমিটার জলপথজুড়ে জেগে উঠেছে ছোট-বড় দুই শতাধিক চর ও ডুবোচর। ফলে ফুলছড়ি উপজেলার অভ্যন্তরীণ নৌরুট এবং তিস্তামুখঘাট-সারিয়াকান্দি আন্তঃজেলা নৌরুটে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র নদে নাব্য সংকটের কারণে তিস্তামুখ-বালাসীঘাট থেকে রৌমারী, চিলমারী, সানন্দাবাড়ী, সারিয়াকান্দি, সাঘাটাসহ প্রায় ২৫টি নৌরুট এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানালেন তিস্তামুখ নৌঘাটের ইজাদার শাহজাহান মিয়া।

তিনি বলেন, ঘুরপথে নৌকা চলাচল করায় সময় লাগছে বেশি। বিভিন্ন রুটে নৌকা চলাচল বন্ধ থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।

নৌকার মাঝি জসিজল মিয়া জানান, ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট থেকে বর্ষা মৌসুমে বাহাদুরাবাদ ঘাটে যাত্রী নিয়ে পৌঁছতে সময় লাগতো দুই ঘণ্টা, নদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় এখন সময় লাগছে বেশি। চরে নৌকা আটকে গেলে তিন-চার ঘণ্টা সময় লাগছে গন্তব্যে পৌঁছতে। এ কারণে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে।

বালাসীঘাটের নৌকার মালিক আজিবর হোসেন জানান, প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমের শুরু থেকেই নদনদীর নাব্য সংকট প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নৌচলাচল। এবারও একই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে পানি না থাকায় অনেক পথ ঘুরে নৌকাগুলোকে গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে। এতে ইঞ্জিনের তেল খরচ ও সময় ব্যয় হচ্ছে বেশি।

ফুলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর গফুর মণ্ডল জানান, নদনদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পাওয়ায় অসংখ্য চর-ডুবোচর জেগে উঠেছে। এখন নদীতে পানি একেবারেই কমে গেছে। কিছু কিছু জায়গায় ডোবার মতো হয়ে আছে। বর্ষা মৌসুম না আসা পর্যন্ত এগুলোর পরিবর্তন হবে না। খনন না করায় নদনদীর এ অবস্থা। ফলে অর্ধেকেরও বেশি রুটে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান সেলিম পারভেজ জানান, নাব্য সংকট কমাতে দ্রুত ড্রেজিং করা প্রয়োজন।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, নদনদী খনন করে নাব্য সংকট দূর করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এখানকার ২৫৬টি চরে প্রায় চার লাখ লোক বসবাস করেন। বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। এসব ফসল বাজারজাত করার ক্ষেত্রে নৌপথই একমাত্র অবলম্বন। তাই দ্রুত ড্রেজিং প্রয়োজন। বিআইডব্লিউটিএ এরই মধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেটি কার্যকর হলেই সংকট কেটে যাবে।

মন্তব্য করুন