ফতুল্লায় ছাত্রদের রোষানলে পড়ে পদত্যাগ করেছেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ। দেওভোগে জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলুম নামের একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপালকে গালি দেওয়ায় ছাত্রদের বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।

গতকাল শনিবার সকালে মো. শাহনেওয়াজ ঘটনার জন্য ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর দুপুর ২টায় ছাত্ররা শান্ত হয়।

মাদ্রাসাটির শিক্ষকদের অভিযোগ, তারা সরকারি কোনো বেতন-ভাতা পান না। অন্যের সাহায্য-সহযোগিতা ও নিজস্ব অর্থায়নে ছাত্ররা লেখাপড়া করেন এবং শিক্ষকদের বেতন দিয়ে থাকেন। মাদ্রাসা কমিটি যেভাবে হওয়ার কথা ২৩ বছর ধরে সেভাবে হয় না। স্থানীয় মো. শাহনেওয়াজ প্রভাব বিস্তার করে ২৩ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদকের পদে বহাল থেকে মাদ্রাসার আয়-ব্যয়সহ সব কিছু নিজের হাতে রেখেছেন। এ বিষয়ে কেউ কোনো হিসাব চাইতে পারেন না এবং প্রতিবাদও করতে সাহস পান না।

শিক্ষক ও বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জানান, শাহনেওয়াজ মাদ্রাসা শিক্ষকদের কারণে-অকারণে গালিগালাজ করেন। মাদ্রাসার ফান্ডে পর্যাপ্ত টাকা থাকা সত্ত্বেও করনোকালে শিক্ষকদের বেতন অর্ধেক দিয়েছেন। বোনাস দেওয়া হয় না। কমিটি থেকে দানশীল ব্যক্তিদের বহিস্কার করে তার পছন্দের লোকজনকে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়।

এর মধ্যে শনিবার সকালে মাদ্রাসার পাশাপাশি দুটি ভবনের মধ্যে সংযোগ সিঁড়ি স্থাপন নিয়ে শাহনেওয়াজের সঙ্গে প্রিন্সিপাল মুফতি আবু তাহের জিহাদির কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে প্রিন্সিপালকে গালিগালাজ করেন শাহনেওয়াজ। বিষয়টি জানতে পেরে পাঁচ শতাধিক ছাত্র বের হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ ভয়ে একটি কক্ষে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা আটকে বসে থাকেন। খবর পেয়ে স্থানীয় হেফাজত নেতা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান ও ফতুল্লা থানা-পুলিশ মাদ্রাসায় উপস্থিত হয়। তখন তাদের উপস্থিতিতে প্রিন্সিপালের কাছে ক্ষমা চেয়ে সাধারণ  সম্পাদকের পদ থেকে শাহনেওয়াজ পদত্যাগ করেন।

প্রিন্সিপাল মাওলানা আবু তাহের জিহাদী জানান, শাহনেওয়াজ ভুল বুঝতে পেরে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তিনি হিসাব বুঝিয়ে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।

ফতুল্লা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম জানান, সাধারণ সম্পাদক শাহনেওয়াজ পদত্যাগ করার পরই ছাত্ররা শান্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন