চট্টগ্রাম

প্রতিপক্ষ নেই বেপরোয়া মেহেদী গ্রুপ

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৬

রুবেল খান

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ক্রাইম জোনখ্যাত বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় এখন চলছে মেহেদী গ্রুপের ক্যাডারদের ত্রাসের রাজত্ব। ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ সব ধরনের অপরাধের সঙ্গেই জড়িত হয়ে পড়েছে তারা। বিশেষ করে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন নাসিরাবাদ আবাসিক ও শিল্প এলাকা, হাশেম টেক্সটাইল মিল এলাকা, মোজাফফরাবাদ এবং পলিটেকনিক এলাকায় ব্যাপক হারে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে মেহেদী গ্রুপের এই ক্যাডার বাহিনী। মূলত মেহেদী খুনের আসামি হয়ে প্রতিপক্ষ শফি গ্রুপ ও কুদ্দুস গ্রুপের সন্ত্রাসীরা এলাকা ছাড়া হওয়ার পুরো সুযোগ নিচ্ছে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নবী আলমের নেতৃত্বাধীন ১৫ থেকে ২০ জনের ওই ক্যাডার বাহিনী। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকার শিল্পপতি, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষ।
এ প্রসঙ্গে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মোহাম্মদ মহসিন বলেন, 'নবী আলমসহ কারও বিরুদ্ধে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'
দীর্ঘদিন ধরে যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন নাসিরাবাদ শিল্প এলাকা, পলিটেকনিক এলাকা ও শেরশাহ কলোনি এলাকার সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্ত হয়ে চাঁদাবাজিসহ ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল। এর মধ্যে একটি গ্রুপের নেতৃত্বে ছিল যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল, অপর একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে শফি ও তার ভাই রাজা মিয়া এবং আরও একটি গ্রুপের নেতৃত্ব দেয় আবদুল কুদ্দুস গ্রুপ। এই বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটত। এই তিনটি গ্রুপই এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি, মানুষের
ভূমি দখল, খাস জমি দখল, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত ছিল। এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে বাসায় ফেরার পথে মেহেদীকে খুন করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের সন্ত্রাসীরা। এর তিন দিন পর বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ওই খুনের ঘটনায় তার স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম বাদী হয়ে ২২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। এতে এক নম্বর আসামি করা হয় কুদ্দুস গ্রুপের আর্মস ক্যাডার সাদ্দামকে। গত ১১ জানুয়ারি রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পরদিন আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে কুদ্দুুসের নির্দেশে মেহেদীকে গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করে সাদ্দাম। জবানবন্দি দেওয়ার পর আদালতের নির্দেশে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এদিকে মেহেদী খুনের আসামি হয়ে প্রতিপক্ষ শফি গ্রুপ ও কুদ্দুস গ্রুপের সন্ত্রাসীরা গ্রেফতার এড়াতে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আত্মগোপনে রয়েছে। তারা এলাকা ছাড়া হওয়ার পুরো সুযোগ নিচ্ছে এখন মেহেদী গ্রুপের ক্যাডাররা।