বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণে অভিনব উদ্যোগ

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০১৭      

সাবি্বর নেওয়াজ

বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের বংশ বিস্তারে প্রশংসনীয় একটি উদ্যোগ নিয়েছে 'মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। দেশের পুরনো ও বড় ২৫টি কলেজ ক্যাম্পাসে লাগানো হবে বিপন্নপ্রায় ৫০০ জাতের উদ্ভিদ। কলেজগুলোতে এসব উদ্ভিদের টিস্যু কালচার ল্যাবও স্থাপন করা হবে। মাউশি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেশীয় ৫০০ প্রজাতির উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে। বিলুপ্তপ্রায় এসব উদ্ভিদের কোনো কোনো প্রজাতির দু-একটি গাছ টিকে আছে। টিকে থাকা এ উদ্ভিদগুলো স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তার করতে পারছে না। তাই ৫০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণে দেশের ২৫টি কলেজকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে মাউশি। প্রথম পর্যায়ে এসব কলেজ অধ্যক্ষদের 'অতি বিপন্নপ্রায়' ২০০ প্রজাতির উদ্ভিদের নামের তালিকা দেওয়া হবে। তালিকা ধরে এসব উদ্ভিদ সংরক্ষণ ও বংশবিস্তারে ব্যবস্থা নেবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি কলেজগুলোতে টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপনেরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাউশির মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এসএম ওয়াহিদুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'বিপন্ন উদ্ভিদগুলো বাঁচাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অনেক জাতের উদ্ভিদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সেসব উদ্ভিদ খুঁজে বের করে টিস্যু কালচার বা স্বাভাবিকভাবে বংশবিস্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিলুপ্ত হতে শুরু করা ২০০টি উদ্ভিদের নামের তালিকা
কলেজগুলোতে পাঠানো হবে। কলেজগুলো তাদের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে খোঁজ নিয়ে তা সংরক্ষণ করবে।'
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে ২৫টি সরকারি কলেজকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়। ২৫টি কলেজের মধ্যে রয়েছে ঢাকা কলেজ, ইডেন সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমির কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজ।
এ ছাড়া রাজশাহীর সরকারি রাজশাহী কলেজ, সিলেটের সরকারি এম সি কলেজ, রংপুরের কারমাইকেল কলেজ, পাবনার অ্যাওয়ার্ড কলেজ, বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ, চট্টগ্রামের চট্টগ্রাম কলেজ, খুলনার বি এল কলেজ, বরিশালের বিএম কলেজ, ময়মনসিংহের আনন্দমোহন কলেজ, ফরিদপুরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, যশোরের এম এম কলেজ, কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজ, বগুড়ার সরকারি দিনাজপুর কলেজ, হবিগঞ্জের বৃন্দাবন কলেজ, পটুয়াখালীর পটুয়াখালী কলেজ, গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ, শেরপুর সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ এবং নারায়ণগঞ্জের তোলারাম কলেজ।
নির্দেশনায় কলেজ অধ্যক্ষদের উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভাগীয় প্রধানের তত্ত্বাবধানে টিস্যু কালচার ল্যাব স্থাপন করে চারা উৎপন্নের পর তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ আশপাশের স্কুল-কলেজগুলোর অব্যবহৃত জায়গায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।